অনুমোদন নেই, তবু চলছে ‘বলুহ মেলা’

আপডেট: 07:21:47 20/09/2021



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: চৌগাছার হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশে অনুমতি ছাড়াই চলছে ‘বলুহ মেলা’।
স্কুলের ভবনের গায়ে, সীমানায় এমনভাবে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য দোকানপাট বসানো হয়েছে, যার ফলে স্কুলের প্রবেশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুলমাঠে যন্ত্রচালিত আলমসাধু, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান রাখা হয়েছে, যাতে করে আসবাবপত্র আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলটি ছুটি দেওয়া হয়েছে। স্কুলের দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। নিচতলার বারান্দায় দোকানিদের খাবার রান্না করা হচ্ছে।
যেই পীর বলুহ দেওয়ানের ওরশকে ঘিরে এই মেলা, সেই মাজার কমিটির সভাপতি আশাদুল ইসলাম আশা গত শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুমতিবিহীন মেলা বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। সেদিন সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে মাজারের আশপাশ থেকে দোকান তুলে দেয়। কিন্তু সেই দোকান এখন প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের চারপাশে বসানো হয়েছে।
এদিকে, মাজার কমিটির আবেদনের তিনদিন পার হলেও মেলা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে নাম প্রকাশ না করতে চাইলেও তারা বলছেন, চাঁদাবাজির জন্যই মেলা বন্ধ করা হচ্ছে না।
প্রতি বাংলা সনের ভাদ্রমাসের শেষ মঙ্গলবার উপজেলার হাজরাখানা গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে পীর বলুহ দেওয়ানের মাজার ঘিরে বসে এই মেলা। বলুহের মাজার ঘিরে হয় ওরশ। প্রতি বছরের মতো গ্রামের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে মেলার অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। তবে জেলা প্রশাসন করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারো মেলার অনুমতি দেয়নি।
মাজার কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মৌখিক অনুমতিতে একদিনের (১৪ সেপ্টেম্বর) জন্য পীর বলুহ দেওয়ানের ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। ওরশের দুই-তিন দিন আগেই শুরু হয় মেলা। মেলায় বগুড়া, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শতাধিক ব্যবসায়ী আসবাবপত্র, খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসিয়েছেন। অনুমতি না থাকায় ১২ সেপ্টেম্বর মাজারের আশেপাশে বসানো দোকান উঠিয়ে দেয় চৌগাছা থানা পুলিশের একটি দল। ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়ও পুলিশ দোকানিদের দোকান উঠিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ইশারায় দোকানিরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দেখা যায়, আসবাবপত্রের দোকানিরা এদিনও ট্রাকে করে মালামাল নিয়ে আসছেন।
কয়েকজন অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের দুজন সহকারী শিক্ষক বলেন, সরকার ৫৪৩ দিন পরে বিদ্যালয় সীমিত আকারে খুলেছে। অথচ এখন হাজরাখানা স্কুলমাঠসহ আশেপাশে হাজারো মানুষের ভীড়। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা খাতুন ফোনে জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
তবে বিদ্যালয়ের ভবন দোকানিরা ব্যবহার করছেন বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন থাকছি না, বিদ্যালয় বন্ধ থাকছে তখন তারা ভবন ও বারান্দা ব্যবহার করছে।’
চৌগাছায় দীর্ঘ ২১ দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেই। ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এখানে। তার কাছে চৌগাছার ইউএনওর অফিসিয়াল মোবাইল ফোনটি রয়েছে। তবে সেটিতে কল করলে রিং বেজেই চলে, রিসিভ হয় না। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চৌগাছার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন