মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের জন্মজয়ন্তী উৎসব শুরু

আপডেট: 10:03:27 08/03/2021



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে মরমীকবি পাগলা কানাইয়ের চারদিনব্যাপী ২১১তম জন্মজয়ন্তী উৎসব।
সোমবার সকালে সদর উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামে কবির মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এসময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদসহ পাগলা কানাইয়ের ভক্ত অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের আয়োজনে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। উৎসবে লাঠিখেলা, কবি রচিত সংগীতানুষ্ঠান, চিত্রাংকন, বই পড়া প্রতিযোগিতা ও কবির জীবন দর্শনের উপর আলোচনাসভা হবে।
বাংলা ১২২৬ সালের ২৫ ফাল্গুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন পাগলা কানাই। মেলার প্রথম দিনে দূর-দূরান্ত থেকে কবিভক্তরা উপস্থিত হন।
পাগলা কানাই ছিলেন লালন পরবর্তী বাংলার অন্যতম মরমী সাধক ও লোককবি। তিনি ইংরেজি ১৮০৯ সালের ৯ মার্চ ও বাংলা ১২১৬ সালের ২৫ ফাল্গুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মেসের আলী আর মা মোমেনা খাতুন। কৈশোরে তার বাবার মৃত্যুর পর কবি কানাই মামাবাড়ি বেড়বাড়ি চলে আসেন। সেখানে তিনি রাখালের কাজ শুরু করেন। ওইসময় তিনি আধ্যাত্মিক ভাবধারার একাধিক বাউল শিল্পীদের সংস্পর্শে আসেন। এরপর শুরু হয় তার মাঠে মাঠে রাখাল বালকদের সাথে সঙ্গীতে হাতেখড়ি। সে সময় তার গানে মুগ্ধ হয়ে মাঠের ক্লান্ত কৃষক আর রাখাল তাকে পাগলা কানাই বলে ডাকতো। এভাবেই তার মুগ্ধ করা গানের কথা খুব অল্প সময়ে এলাকা ছেড়ে সারাদেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
অল্প সময়ের মধ্যে তিনি আধ্যত্মিক গান রচনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তা পরিবেশনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা আর্জন করতে সক্ষম হন। প্রায় ৮০ বছরের জীবদ্দশায় প্রায় ৩ হাজার আধ্যত্মিক, ভক্তি সঙ্গীত এবং কবিতা রচনা করে গেছেন। তার রচিত গানের মধ্যে রয়েছে পালাগান, জারিগান, ধোয়াগান, কবিগান, মুর্শিদি, মারফতি এবং ইসলামকি গান।
১৮৮৯ সালের জুলাই মাসে ও বাংলা ১২৯৬ সালের ২৮ আষাঢ় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর মরমিকবি পাগলা কানাইকে তার ভক্ত আর আত্মীয় স্বজনরা বেড়বাড়িতে দাফন করেন। সেখানেই সরকারিভাবে তৈরি করা হয়েছে পাগলা কানাই স্মৃতি অডিটরিয়াম এবং পাকাকরণ করা হয়েছে কবির কবরস্থান।

আরও পড়ুন