অভিযোগ সুনির্দিষ্ট না, তবু চ্যালেঞ্জ নেবে যবিপ্রবি

আপডেট: 01:44:10 10/05/2020



img

কবীর সাঁই : সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানে না যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বাতাসে ভেসে বেড়ানো অনেক কথাই তাদের কানে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে চ্যালেঞ্জ নিতে পিছুপা হবে না প্রতিষ্ঠানটি।
গেল শুক্রবার যশোর সার্কিট হাউজে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে ওই মতবিনিময় সভায় মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্যও ছিলেন।
সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের অন্তত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও একজন সংগঠকসহ বেশ কয়েকজন যবিপ্রবিতে চলমান নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ যবিপ্রবি ল্যাবে পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন। অবশ্য তারা কেউই এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। তাদের ভাষ্য, যবিপ্রবি ল্যাবে অনেক বেশি পজেটিভ ফলাফল আসছে।
যবিপ্রবিতে নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিষয়টিকে 'বাঁকা চোখে' দেখছেন বলে খবর রটে। যদিও কর্মকর্তারা কখনো এই বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেননি। কিন্তু তাদের কার্যক্রমে তা ক্রমশ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্প্রতি যশোর স্বাস্থ্য বিভাগ যেসব সন্দেহভাজন করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করছে, তার একটি বড় অংশ খুলনা মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠাচ্ছে। ঘরের কাছে ল্যাব থাকা সত্ত্বেও কেন দূরবর্তী স্থানে নমুনা পাঠানো হচ্ছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলছেন, তার সামনে যথেষ্ট অপশন আছে। তিনি যে ল্যাবে ইচ্ছা নমুনা পাঠাতে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে সুবর্ণভূমি স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নমুনা পরীক্ষার কাজে নিয়োজিতদের বক্তব্য জানতে চায়। এছাড়া বক্তব্য নেওয়া হয় এই দুই সেক্টরের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী দুইজনের।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন সুবর্ণভূমির কাছে স্বীকার করেন যে, শুক্রবারের সভায় যবিপ্রবি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। ঢাকায় ঊর্ধ্বতন মহলকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবকে 'ইনভ্যালিড' করার চেষ্টা করছেন কিনা- সুবর্ণভূমির এমন প্রশ্নে সিভিল সার্জন অবশ্য বলেন, 'না, তা করবো কেন? আজও (শুক্রবার) যশোর থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলো যবিপ্রবি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।'
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার যশোর থেকে মাত্র চারটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়; যেগুলো যবিপ্রবি ল্যাবেই পাঠানো হয়েছিল। এর পরদিন আজ শনিবার এই জেলা থেকে ৮১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ২৫টি পাঠানো হয়েছে যবিপ্রবিতে। বাদবাকি ৫৬টি নমুনা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে খুলনায়। গেল বৃহস্পতিবারও সিভিল সার্জন একই ধরনের কাজ করেন। ওইদিন যশোর থেকে সংগৃহীত নমুনার বড় অংশই খুলনায় পাঠিয়ে দেন তিনি।
শুক্রবার যশোর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত সভায় যবিপ্রবির পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জেলা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সেক্রেটারি ডা. এমএ বাশার। সভায় উপস্থিতদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সেদিনই সুবর্ণভূমি নিশ্চিত হয়েছিল। নিউজপোর্টালটিতে এই সংক্রান্ত খবরও প্রকাশিত হয়। আজ শনিবার মোটামুটি একই ধরনের খবর ছাপে যশোর থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোও।
শনিবার দুপুরে বিএমএ সেক্রেটারির কাছে জানতে চাওয়া হয়, 'যবিপ্রবির পরীক্ষার ব্যাপারে আপনাদের আপত্তি ঠিক কোথায়?'
জবাবে জেলা আওয়ামী লীগের এই স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে যশোর ল্যাবে অনেক রেজাল্ট পজেটিভ আসছে। এনিয়ে লোকজন কথা বলছে। খুলনা ল্যাবে নেগেটিভ আসছে অনেক। এর পেছনে হয়তো সময়ও একটা ফ্যাক্টর। কখন সংগ্রহ করা নমুনা কখন পরীক্ষাগারে যাচ্ছে, কখন সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তবে যবিপ্রবি ল্যাবের কোনো টেকনিক্যাল ফল্ট আছে কি-না তা দেখা উচিত।'
যবিপ্রবি ল্যাবে কর্মরতদের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে কিনা জানতে চাইলে ডা. বাশার বলেন, 'না কোনো সন্দেহ নেই। এখানে জেনোম সেন্টার আছে। খুলনায় নেই।'
তিনি বলেন, হয়তো স্যাম্পল কালেকশন সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি থাকতে পারে।
স্যাম্পল সংগ্রহের কাজটি স্বাস্থ্য বিভাগ করে। সেখানে কোনো ত্রুটি থাকলে তার দায়দায়িত্ব পরীক্ষাগারে নিয়োজিতদের দেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে বিএমএ সেক্রেটারির জবাব, 'বায়োলজিক্যাল বিষয়ে আমি অতো বুঝবো না।'
এইসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'যদিও আমি জানি না, অভিযোগ ঠিক কী। তবে আশপাশ থেকে অনেক কথাই কানে আসে। যদি পরীক্ষার মান, পদ্ধতি, বিশেষজ্ঞ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে আমার প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। শুধু হিউম্যান এরোর বাদ দিয়ে বাংলাদেশের কোনো ল্যাব যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারের রিপোর্ট ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। কারণ এখানে ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ড (গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড) মেইনটেইন করে নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে।'
তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু স্যাম্পল কালেকশন করে না। ওই কাজ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্যাম্পল কালেকশন, সংরক্ষণ, পরিবহনে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তার দায়-দায়িত্ব কোনোভাবেই নমুনা পরীক্ষার কাজে নিয়োজিতদের ওপর চাপানো যায় না। স্যাম্পল কালেকশন ও সংরক্ষণে যে ত্রুটি থাকছে, তা বার বার সিভিল সার্জনদের জানিয়েছি।'
দেশের অন্যতম খ্যাতিমান এই অণুজীববিজ্ঞানী বলেন, 'আরটিপিসিআর-এর ম্যাকানিজম বুঝতে হবে। এই মেশিন কখনো ভুল তথ্য দেয় না। ভুল হয় মানুষের। নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরীক্ষা পদ্ধতি বুঝতে সমস্যা হলে ভুল হবে।'
এর আগে স্বাস্থ্য বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সুবর্ণভূমিকে বলেন, ঝিনাইদহের ১৫টি নমুনা যশোর ল্যাবে পজেটিভ বলে শনাক্ত হয়। সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল পুনঃপরীক্ষার জন্য। ফলাফল এসেছে নেগেটিভ। 'এটাকে কী বলবেন?'- প্রশ্ন করেন ওই স্বাস্থ্যকর্তা।
এই বিষয়ে যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারের পরিচালকের বক্তব্য চাইলে ড. আনোয়ার বলেন, 'আমি তো জানি না স্বাস্থ্য বিভাগ কখন কোন নমুনা কোন ল্যাবে দিচ্ছে। রিচেক করার জন্য সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে রিপোর্ট পাল্টে যেতেই পারে। যারা সমালোচনা করছেন, তারা তো রিচেক করার পদ্ধতিই জানেন না। যেকোনো ল্যাবে একটি নমুনাকে পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হলো। তার তিনদিন পর অন্য কোনো ল্যাবে সেই নমুনা পাঠালে নেগেটিভ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এক্ষেত্রে পদ্ধতি হলো আরএনএ-টাকে ডিএনএ করে পাঠানো। ডিএনএ হলো স্ট্যাবল। আরএনএ-ও সঠিক ফল দিতে পারে, যদি তা ফ্রিজড করে রাখা হয়। দিস ইজ ভেরি সায়েন্টিফিক। আইইডিসিআর চাইলে আমরা নমুনার ডিএনএ পাঠাতে পারি।'
ঝিনাইদহের নমুনাগুলোর ব্যাপারে কী হয়েছে তা জানার জন্য উপাচার্য ড. আনোয়ার তার জেনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক ও যবিপ্রবিতে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমের প্রথম টিমের লিডার প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।
সুবর্ণভূমির এই সংক্রান্ত প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর জাহিদ বলেন, 'ঝিনাইদহের কোনো নমুনা পুনঃপরীক্ষা করার জন্য অন্য কোনো ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগ ভালো জানে। তবে যশোর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ছয়টি পজেটিভ নমুনা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। পুনঃপরীক্ষার পর সেই ছয়টির মধ্যে তিনটি নেগেটিভ বলে ফল আসে।'
কেন এমনটি হলো জানতে চাইলে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ড. ইকবাল কবীর জাহিদ একটি উদাহরণ ছাড়াও এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, 'চুয়াডাঙ্গার যে তিনটি নমুনা পুনঃপরীক্ষায় নেগেটিভ ফল দিয়েছে, তার একজনের পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে যবিপ্রবি ল্যাবে পাঠিয়েছিল সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই নমুনাগুলোর মধ্যে একটি পজেটিভ হয়েছে। অর্থাৎ যবিপ্রবি ল্যাবের পরীক্ষার ফল সঠিক ছিল। তা না হলে ওই পরিবারের আরেক সদস্যের নমুনা পজেটিভ হওয়ার কথা না।'
একই নমুনা বিভিন্ন ল্যাবে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল দেয় কী কারণে তা ব্যাখ্যা করে গেল সপ্তায় সুবর্ণভূমিতে একটি আর্টিকেল লেখেন যবিপ্রবিতে নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান টিম লিডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার
এই প্রসঙ্গে ড. জাহিদ বলছেন, 'আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দুই থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস মোটামুটি যথাযথ থাকে। এরপর থেকে শরীরের ইমিউনিটি শক্তিশালী হতে থাকে। সক্ষম মানুষের শরীরে ৮-১০ দিনের মধ্যে ইমিউনিটি যে পর্যায়ে পৌঁছায়, তা কোভিড-১৯ ভাইরাসকে পরাজিত করার জন্য যথেষ্ট। ফলে মোটামুটি ১৪ দিনের মাথায় আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই ভাইরাসমুক্ত হয়ে যেতে পারেন।'
ড. জাহিদ তার এক ডাক্তার বন্ধুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার নমুনা দুই দফা পরীক্ষা করা হয়। প্রথম দফায় পজেটিভ রেজাল্ট আসে। পরের দফায় নেগেটিভ। এখন তার ডাক্তার বন্ধু প্রশ্ন করছেন, 'প্রথম দফার রেজাল্ট কি ফলস পজেটিভ ছিল?'
'ডাক্তাররাও বিষয়টি সম্বন্ধে ক্লিয়ার না। করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে অনন্তকাল থাকবে না। অন্য কোনো রোগে আক্রান্তদের এই ভাইরাস মৃত্যু ঘটাতে পারে। কিন্তু রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন মানুষেরা মোটামুটি ১৪ দিনের মধ্যে করোনাকে পরাজিত করতে পারবেন,' যোগ করেন অণুজীববিজ্ঞানী ড. জাহিদ।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, 'সন্দেহভাজন রোগীর দেহের নমুনা পাঠানো হয় তরলের মধ্যে। কোন ল্যাব তরলের কতটুকু ব্যবহার করছে, তার ওপরও ফলাফল নির্ভর করতে পারে। একটি নমুনা একদিনে বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হলে একই পদ্ধতিতে যদি পরীক্ষা করা হয়, তাহলে সবখান থেকে একই রিপোর্ট আসবে। একেক দিন একেক ল্যাবে পাঠালে ফলাফল ভিন্ন হতেই পারে। যবিপ্রবি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল দিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গত কারণে যদি কিছু নমুনার পরীক্ষা সম্পন্ন করা নাও যায়, সেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।'
স্বাস্থ্য বিভাগের 'বিরুদ্ধাচারণ' এবং 'অসহযোগিতামূলক' মনোভাবের কারণে তাহলে কি যবিপ্রবি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে?- এই প্রশ্ন এখন অনেকের।
এই প্রসঙ্গে যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য, 'মনে রাখতে হবে, আমরা কিন্তু বিজ্ঞানী। টেকনিশিয়ান না। রোগ নির্ণয় করাও আমাদের কাজ না। গবেষণা করাই আমাদের কাজ। যশোর তথা দেশবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে এই নাজুক সময়ে আমরা বাড়তি দায়িত্ব পালন করছি পুরোপুরি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। আমাদের প্রফেসররা সারারাত জেগে কাজ করেন। এটা তাদের চাকরির অংশ না। যবিপ্রবি ল্যাবে যদি পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তো আমাদের কারো চাকরি চলে যাবে না, বেতনও বন্ধ হবে না।'
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'শুক্রবারের মিটিংয়ে আমি ছিলাম। আমি স্পষ্ট করে বলেছি, সরকারের এখনকার পলিসি হলো, বেশি বেশি পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে যবিপ্রবি ল্যাবে যদি কোনো ফল্ট থাকে, তো সেটা দেখা যেতে পারে। ল্যাবের নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার প্রশ্নই তো উঠতে পারে না।'
যশোরের জেলা প্রশাসক ও করোনা প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ সুবর্ণভূমিকে বলেছেন, যবিপ্রবি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
এদিকে, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে দলটির অন্যতম দাবি ছিল, যবিপ্রবি ল্যাবে পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

আরও পড়ুন