অবৈধ ১৩ ভাটায় পুড়বে নয় লাখ মণ কাঠ

আপডেট: 04:44:05 10/12/2019



img
img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা শহর-সংলগ্ন জলিলপুর এলাকায় রয়েছে ‘র‌্যাডো ব্রিকস’ নামে একটি ইটের ভাটা। ব্যারেল চিমনি এই ভাটায় মজুদ করা হয়েছে শত শত মণ কাঠ। ইতিমধ্যে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। আর এই কাজে ব্যবহার হচ্ছে মজুদ করা ওই কাঠ।
একই এলাকায় আছে ‘জুয়েল ব্রিকস’ নামে আরেকটি ফিক্সড চিমনির ভাটা। সেটাতেও পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ।
শুধু এই দুটি ভাটাই নয়, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এ জাতীয় দশটি অবৈধ ভাটায় বছরে কমপক্ষে ছয় লাখ মণ কাঠ পোড়ানো হবে। এছাড়া তিনটি ফিক্সড চিমনির ভাটাতেও পুড়বে প্রায় তিন লাখ মণ কাঠ। আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যেই এই সব ভাটা কাঠ মজুদ করেছে এবং তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে। অথচ ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো যাবে না- এমন কঠোর আইন রয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ভাটা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত মণ কাঠ মজুদ করা রয়েছে। ভাটার চিমনিতে ধোঁয়া বের হচ্ছে, আর পুড়ছে কাঠ।
উপজেলার নেপা মোড়ে রয়েছে সোহাগ ব্রিকস। ব্যারেল চিমনির এই ভাটার চারিদিকে কয়েকশ মণ কাঠ রয়েছে। শ্রমিকরা জ¦ালানি হিসেবে এই কাঠ ব্যবহার করছেন।
একই এলাকায় রয়েছে মাছুম ব্রিকস; সেখানেও কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
এছাড়া খোসালপুরে রয়েছে ব্যারেল চিমনির ভাই ভাই ব্রিকস, তারাও পোড়াচ্ছেন কাঠ।
ব্যারেল চিমনির আরো কয়েকটি ব্রিকস রয়েছে। তারাও কাঠ পোড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নস্তিতে শাকিল ব্রিকস, শ্যামকুড়ে এসবিএম ব্রিকস, গাড়াবাড়িয়া এলাকায় রিপন ব্রিকস, কুসুমপুর এলাকায় এম এ আর ব্রিকস্ কর্তৃপক্ষও প্রতিদিন শত শত মণ কাঠ পোড়াচ্ছেন।
মহেশপুরে এছাড়া আরো কয়েকটি ব্যারেল চিমনির ভাটা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে তিনটি ফিক্সড চিমনির ভাটাও। যার মধ্যে জুয়েল ভাটায় প্রচুর পরিমাণে কাঠ মজুদ দেখা গেছে।
একইভাবে যাদবপুরের বাহার ব্রিকস ও পদ্মপুকুরের রাফি ব্রিকস-এ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
এ সব ভাটার কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছেন ভাটা মালিকদের একটি সূত্র। তাদের ভাষায়, জিগজ্যাগ ভাটা ছাড়া অন্য কোনো ভাটার অনুমোদনের সুযোগ নেই। সরকার ব্যারেল বা ফিক্সড চিমনির কোনো ভাটার অনুমোদন দিচ্ছে না।
ভাটা মালিকদের একজন নাম প্রকাশ না করে জানান, তারা জিগজ্যাগ ভাটা পরিচালনা করেন। এই ভাটায় কয়লা ব্যবহার হয়ে থাকে। জিগজ্যাগ ভাটায় ইট পোড়ানোর খরচ একটু বেশি হওয়ায় অনেকে করতে চান না। এর ফলে পরিবেশের ক্ষতি বাড়ছে।
তিনি আরো জানান, ব্যারেল বা ফিক্সড চিমনির ভাটার চেয়ে জিগজ্যাগ ভাটায় ইট পোড়াতে তাদের ইটপ্রতি দুই টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। এতে তারা ব্যবসায়ীকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কম টাকায় ইট তৈরি করে তারা কম টাকায় বিক্রি করছেন।
ভাটাগুলোতে ইট পোড়ানোর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি ভাটায় এক বছরে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার মণ কাঠ পুড়বে। এই হিসেবে ব্যারেল চিমনির দশ ভাটায় পুড়বে প্রায় ছয় লাখ মণ কাঠ। আর তিনটি ফিক্সড চিমনির ভাটায় পুড়বে আরো ৩ লাখ মন মাঠ। এ হিসাবে এ বছর মহেশপুরে অবৈধ ১৩ ভাটায় প্রায় নয় লাখ মণ কাঠ পোড়ানো হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, মালিকরা ইতিমধ্যে তাদের ভাটাগুলোতে শত শত মণ কাঠ মজুদ করছেন। অনেকে বাইরে থেকে কাঠ কেটে নিয়ে আসছেন, আবার অনেকে ভাটার মধ্যেই কেটে ব্যবহার উপযোগী করে নিচ্ছেন।
ভাটায় কাঠ সরবরাহ করেন এমন একজন গোলাম সরোয়ার জানান, বছরের এই সময় তাদের মূল কাঠের ব্যবসা। যার সিংহভাগই ইটের ভাটায়।
তিনি আরো জানান, সারা বছর তারা ভাটা মালিককে কাঠ দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে এই কাঠ সংগ্রহ করেন। এরপর ভাটায় ব্যবহার উপযোগী করে সরবরাহ করেন। এভাবে গাছ কাটা ক্ষতিকর জেনেও জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে করেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে র‌্যাডো ব্রিকস-এর মালিক আব্দুর রহমানের কাছে এভাবে কাঠ পোড়ানো ঠিক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই করছে তাই তিনিও করছেন।
ফিক্সড চিমনির জুয়েল ভাটার মালিক মশিয়ার রহমান জানান, আগামী বছর তিনি জিগজ্যাগ ভাটা করবেন। এ বছর এভাবে চালানো ছাড়া উপায় নেই।
বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন সরকার জানান, দ্রুত এ বিষয়ে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন