'কবরস্থানে' আশ্রয়ণ প্রকল্প!

আপডেট: 06:48:18 26/01/2021



img

নড়াইল প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী মধুমতি নদী তীরে চাপাইল গ্রামে কবরস্থানের জায়গায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলার চাপাইল গ্রামবাসীর পক্ষে মো. মাসুদ রানা রোববার (২৪ জানুয়ারি) নড়াইল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপালগঞ্জ শহর থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে মধুমতি নদী। নদীর এক প্রান্তে গোপালগঞ্জ সদরের মানিকদহ গ্রাম। অপর পারে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাপাইল গ্রাম। এ গ্রামে অন্তত ৭০ একর খাস জমি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু জমি ভূমিহীনদের সরকার বন্দোবস্ত দিয়েছে। গ্রামে কোনো কবরস্থান না থাকায় চাপাইল ঘাট-সংলগ্ন মসজিদের সামনের অন্তত ৫০ শতক খাস জমি কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রায় দেড় বছর আগে স্থানীয় জনগণের অনুরোধে কবরস্থান করার মৌখিক সম্মতি দেন।
গ্রামের মানুষের অনুদানের চার লাখ টাকায় মাটির বেড়িবাঁধ দিয়ে কবরস্থানের ভূমির উন্নয়ন করা হয়। গত জুলাই মাসে চাপাইল গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি কাশেম খানের মরদেহ ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়। মসজিদের সামনের কবরস্থানের ওই জায়গায় এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এঅবস্থায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কবরস্থানের জায়গার পরিবর্তে খাস জমিতে নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
চাপাইল গ্রামের ভূমিহীন তাহাবুর খান বলেন, 'এ কবরস্থানে আমার বাবার কবর দিয়েছি। এখন বাবার কবরের পাশ দিয়ে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে কবরস্থানটি বিপন্ন হচ্ছে। আমরা ভূমিহীন ও গরিব তাই আমাদের কথা প্রশাসন শুনছে না। আমরা এ কবরস্থান রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।'
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, 'স্থানীয়রা কবরস্থানের জন্য আমার কাছে জমি চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাদের কোনো জমি বরাদ্দ দিইনি। এমনকি মৌখিকভাবেও তাদের কবরস্থান করার সম্মতি প্রদান করিনি।'
নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমি এ জেলায় নতুন যোগদান করেছি। ওই স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্প হচ্ছে কি-না, তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।'

আরও পড়ুন