তালায় চেয়ারম্যান হলেন যারা

আপডেট: 01:17:08 21/09/2021



img

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সোমবার তালা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ীদের নাম পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের পাঁচ, বিএনপি সমর্থিত দুই, ওয়ার্কার্স পার্টির এক, জামায়াতে ইসলামীর এক এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৪৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তালা সদর, খলিলনগর এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে এবার প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ধানদিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম পাঁচ হাজার ৬০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন চার হাজার ৭৭২ ভোট। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক হাজার ৬৭৩ ভোট।
নগরঘাটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান লিপু নৌকা প্রতীক নিয়ে সাত হাজার ৯০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম তিন হাজার ২৭১ ভোট পেয়েছেন।
সরুলিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী আব্দুল হাই মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পাঁচ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রব পলাশ আনারস প্রতীক নিয়ে পাঁচ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়েছেন।
তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এস এম আবুল কালাম আজাদ নৌকা প্রতীক নিয়ে ১১ হাজার ১৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আফতাব উদ্দীন চশমা প্রতীক নিয়ে দুই হাজার ৩০৬ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আনারস প্রতীক নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান এক হাজার ১২৬ এবং জাতীয় পার্টির এম এম আবুল হোসেন লাঙল প্রতীক নিয়ে ৯২ ভোট পান।
তালা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সরদার জাকির হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে সাত হাজার ৮৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এসএম নজরুল ইসলাম লাঙল প্রতীক নিয়ে সাত হাজার ১১৯ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিয়ার রহমান আনারস প্রতীক নিয়ে তিন হাজার ১২৪ ভোট পান।
ইসলামকাটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী গোলাম ফারুক চশমা প্রতীক নিয়ে চার হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সুভাষ সেন নৌকা প্রতীক নিয়ে তিন হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আজিজ মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে তিন হাজার ৪২৯ ভোট পেয়েছেন।
মাগুরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গণেশ দেবনাথ নৌকা প্রতীক নিয়ে চার হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির হিরণ্ময় মণ্ডল হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে তিন হাজার ৮০০ ভোট পেয়েছেন।
খলিষখালী ইউনিয়নে ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোল্লা সাবীর হোসেন হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে ছয় হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী  আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোজাফ্ফর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে ছয় হাজার ১৭৫ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আরেক প্রার্থী গাজী রেজাউল ইসলাম তিন হাজার ২৮১ ভোট পেয়েছেন।
খেশরা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের শেখ কামরুল ইসলাম (লাল্টু) নয় হাজর ১৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রাজিব হোসেন (রাজু) নৌকা প্রতীক নিয়ে সাত হাজার ৮৮৬ ভোট পেয়েছেন।
জালালপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মফিদুল হক লিটু আনারস প্রতীক নিয়ে সাত হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল ইসলাম (মুক্তি) নৌকা প্রতীক নিয়ে ছয় হাজার ২৫৬ ভোট পেয়েছেন।
খলিলনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রণব ঘোষ বাবলু নৌকা প্রতীক নিয়ে দশ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের এস এম আজিজুর রহমান রাজু সাত হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়েছেন। আরেক প্রার্থী গোলাম রসুল চশমা প্রতীক নিয়ে ১৩১ ভোট পেয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার রাহুল রায় জানান, দু’-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি ছিল। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে এই সরকারি কর্মকর্তা মনে করেন।

আরও পড়ুন