নির্দেশ থোড়াই কেয়ার, চালু হলো ক্লিনিক

আপডেট: 03:55:41 26/09/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বন্ধ করা ক্লিনিকগুলোতে অনুমতি ছাড়াই আবারো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাগআঁচড়া ও নভারনের দশটি ক্লিনিকে গত মাসে লাইসেন্স নবায়নসহ স্বাস্থ্যগত নিয়ম মেনে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা সিভিল সার্জন। তিনি দু‘-তিনটি ক্লিনিক ছাড়া বাকি ক্লিনিকগুলোর কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন। কিন্তু জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্তার নির্দেশ থোড়াই কেয়ার করে বাগআঁচড়া আঁখি টাওয়ারে অবস্থিত আল-মদিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অপারেশন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে অপারেশনের ভীতিকর ছবি পোস্ট করায় রীতিমত হইচই পড়ে গেছে সচেতন মহলে। তাদের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপারেশন থিয়েটারে জনৈক রোগীকে অপারেশন করা হচ্ছে।
গত মাসে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার বাগআঁচড়া ও নাভারনের দশটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে নবায়নের নির্দেশ দেন। সিভিল সার্জন ক্লিনিকগুলোর ক্রটি সংশোধনের পরামর্শও দেন। তিনি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেন। স্বাস্থ্য প্রশাসন অভিযুক্ত দশটির মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদানের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় একটিকে স্থায়ীভাবে এবং ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজিক্যাল ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু বাগআঁচড়ার জোহরা মেডিকেল সেন্টার, জনসেবা ক্লিনিক ও মুক্তি ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করা হয়। অন্যান্য ক্লিনিকে কোনো ডিপ্লোমা পাশ নার্স এবং প্যাথলজি বিভাগে কোনো টেকনোলজিস্ট না থাকায় আল মদিনা ও পল্লী ক্লিনিকসহ বাকি ক্লিনিকগুলোর প্যাথলজি ও অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আল মদিনা হাসপাতালের পরিচালক কামরুজ্জামানের বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র জমা দিয়েছি এবং অপারেশন করার অনুমতি আছে।’
কিন্তু সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলছেন, বন্ধ করা ক্লিনিকগুলোকে লাইসেন্স নবায়নসহ সময় দেওয়া হয়েছিল ক্রটিগুলো সংশোধন করার জন্য। কিন্তু কোনো কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি তাদের। যদি তারা নির্দেশ অমান্য করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন