সুপারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা

আপডেট: 10:08:47 23/09/2021



img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট বা চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কিনতে সরকারি ক্রয়নীতি লংঘনসহ পরস্পর যোগসাজসে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক, ঠিকাদার এবং ঢাকায় কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক মেরামত সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে এক কোটি দশ লাখ ৩৫ হাজার ৯শ ৭০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কুষ্টিয়া জেলা দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক শেখ আবু তাহেরের আদালতে দুদক প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপসহকারী পরিচালক মো. শহিদুর রহমান এজাহারটি দাখিল করেন। আদালত সেটি আমলে নিয়ে আগামী সপ্তাহে শুনানিসহ আদেশের দিন ধার্য করেন।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা মৃত আহাম্মদ আলী মল্লিকের ছেলে ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু হাসানুজ্জামান (৬১), আশুলিয়া নিশ্চিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত মওলানা কেরামত আলীর ছেলে ও ঢাকা মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিপিয়ার অ্যান্ড ট্রেনিং ইঞ্জিনিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস (৬১) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স প্যারাগন এন্টারপ্রাইজের’ স্বত্বাধিকার রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ডাকরা গ্রামের বাসিন্দা আমির হামজার ছেলে মো. জাহেদুল ইসলাম (৩২)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট বা চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়নীতি লংঘন ও পারস্পরিক যোগসাজসে আর্থিক সুবিধা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে নয়টি খাতের অনুকূলে বাজারমূল্যের কয়েক গুন বেশি মূল্য ধার্যপূর্বক সরকারের অতিরিক্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সেবা খাতে কর্মরত কর্মকর্তা হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে পাঁচটি বিল-ভাউচার দাখিল করে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে যা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্ণীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কুষ্টিয়া জেলার কৌশূলি অ্যাডভোকেট আল মুজাহিদ মিঠু মামলা রুজুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুদকের সব মামলাই চূড়ান্তভাবে আদালতে দাখিলের পূর্বে খুব বিচক্ষণতার সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত করেন। শুধুমাত্র যেসব ক্ষেত্রে সত্যতা আছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় সেগুলোই মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এই মামলার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আদালত আগামী সপ্তাহে যে আদেশ দেন সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন