শার্শার কাচারিবাড়ি দখল, ৪১ বছর পর মামলা

আপডেট: 10:05:53 24/09/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): শার্শার ঐতিহ্যবাহী কাচারিবাড়ির সরকারি জমি গোপনে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।
দীর্ঘ ৪১ বছর পর অভিযুক্ত আটজনের বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন যশোর জেলা প্রশাসক। তার পক্ষে সরকারি কৌঁসূলি কাজী বাহাউদ্দিন ইকবাল বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে মামলাটি দাখিল করেন। বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারি করে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি মামলার দিন ধার্য করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, শার্শার মোড়লপাড়ার মৃত ফজলুর রহমানের স্ত্রী রেহেনা খাতুন ও মমতাজ বেগম, ছেলে জসিম উদ্দিন, কবির হোসেন, মনির হোসেন, ইমাম হোসেন, মেয়ে শাহিনা খাতুন এবং বোন জাহানারা খাতুন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭২ নম্বর শার্শা মৌজার সাবেক ১২৫৫ দাগের ৩৫ শতক সরকারি জমি ফজলুর রহমান প্রথমে একসনা বন্দোবস্ত নেন। এরমধ্যে ৩২ দশমিক ৬৩ শতক (প্রায় এক বিঘা) জমি ১৯৮০ সালের ২ ফেব্রæয়ারি নিজ নামে রেকর্ড করে নেন তিনি। প্রথম দিকে বিষয়টি গোপন থাকলেও তার মৃত্যুর পর ছেলে কবির হোসেন, জসিম উদ্দিন, মনির হোসেন এবং ইমাম হোসেন সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রকাশ্যে দখলে নেন।
সেই সময় সরকারি ওই জমি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো তা নিয়ে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা ভ‚মি অফিস থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর স্বাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করেন, ‘কালেক্টরেট যশোরের নামে কাচারিবাড়ি বাস্তু শ্রেণির জমি; যা প্রতারণা করে ধানি জমি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ফজলুর রহমানের মৃত্যুর পর তার সন্তানদের নামে এ জমি রেকর্ড করা হয়।’
এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে চিঠি লেখেন। এরপর যশোরের জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে এলএসটি মামলা করার জন্য সরকারি কৌঁসূলিকে চিঠি দেওয়া হয়।
যশোর আদালতের সরকারি কৌঁসূলি কাজী বাহাউদ্দীন ইকবাল জানান, চিঠি পেয়ে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যান। কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন সরকারের কাচারিবাড়ির সম্পত্তি জাল দলিল করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শার্শা মৌজার প্রিন্ট পরচার রেকর্ড প্রকাশিত হলেও গেজেট বের হতে দেরি হয়। যে কারণে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতেও বিলম্ব হয়। বৃহস্পতিবার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে আটজনের নামে মামলা করা হয়েছে। বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারি করে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি মামলার দিন ধার্য করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমির মধ্যে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের নালা আছে; যা ব্যবহারের সময় স্থানীয় লোকজন ফজলুর রহমানের পাঁচ সন্তানের দ্বারা একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন