খেজুরপাতা আর কাশের খড় দিয়ে নান্দনিক পণ্য

আপডেট: 08:02:29 14/08/2021



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা): খেজুরপাতা আর কাশের খড় দিয়ে যে চমৎকার হস্তশিল্পসামগ্রী তৈরি করা সম্ভব তা কলারোয়ার গ্রামাঞ্চলের সাধারণ নারীরা তা দেখিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় এক শিক্ষিত তরুণের প্রচেষ্টায় সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এই কাজ করে নিজেদের অবস্থারও খানিকটা উন্নতি করতে পেরেছেন।
শিহাব উদ্দীন পলাশ উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের পাঁচনল গ্রামে বসবাস করেন। তিনি সাতক্ষীরাভিত্তিক বড় এনজিও ‘ঋশিল্পী’ পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি করতেন। ফাঁকে ফাঁকে হস্তশিল্পের কাজও করতেন। একপর্যায়ে তিনি ওই চাকরি ছেড়ে এলাকার গরিব নারীদের হস্তশিল্পের কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভর করতে মনোনিবেশ করেন। গড়ে তোলেন ‘কপোতাক্ষ হ্যান্ডিক্রাফটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
কাঁচামাল হিসেবে তারা ব্যবহার করছেন খেজুরপাতা আর কাশের খড়। হাতের কাছে পাওয়া এসব সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক সামগ্রী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের তৈরি করা এসব পণ্য দেশে-বিদেশে বাজারজাত করা হয়। বর্তমানে উৎপাদিত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সুদৃশ্য কারুকাজ করা লন্ড্রি বাসকেট, প্লেস ম্যাট, রেক্টেংগুলার বাসকেট, কিচেন বাসকেট, সিলিন্ডার বাসকেট প্রভৃতি। দেশ ছাড়াও ক্রেতাদের পছন্দমাফিক পণ্য তৈরি করে ইউরোপসহ ১০-১২টি দেশে বিক্রি করছেন তারা।
কপোতাক্ষ হ্যান্ডিক্রাফটসের প্রোপ্রাইটার শিহাবউদ্দীন পলাশ জানান, গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে একাজে লাগানো হয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৩০ নারী এখন এই কাজ করছেন। ওই নারীরা গৃহস্থালী কাজকর্ম শেষে অবসর সময়ে হস্তশিল্পসামগ্রী তৈরি করে প্রতিমাসে ৩-৪ হাজার টাকা আয় করেন।
তিনি আরো জানান, উপজেলার জয়নগর, ক্ষেত্রপাড়া, কামারালী, খোরদো, জালালাবাদ, কুশোডাঙ্গা, কাজিরহাট, রঘুনাথপুর, সোনাবাড়ীয়া, খাসপুর ও বাকসা এলাকার নারীরা এই হস্তশিল্পের নকশা তৈরি কাজে সহযোগিতা করছেন। মাস শেষ ওই নারীরা প্রাপ্য মজুরি নিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ ছাড়াও সাংসারিক প্রয়োজনে খরচ করছেন। তাছাড়া প্রান্তিক এসব নারীকে বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালনেও উৎসাহিত করা হয়।