মহম্মদপুরে ভাঙছে মধুমতি

আপডেট: 06:02:46 26/07/2021



img

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে পানির চাপ ও তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের তিন গ্রামের বিলীন হতে শুরু করেছে বসতঘর ও ফসলি জমি। ইতিমধ্যে ১৫টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নদীগর্ভে চলে যাবে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ আবির হোসেনের সমাধি ও ভিটেমাটিসহ তার নামের একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এলাকার রউফ মোল্যা নামে এক ব্যক্তি জানান, মধুমতির ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ভাঙনে নদীতীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব। ইতিমধ্যে সদর ইউনিয়নের কাশিপুর, ধুলজুড়ি ও ভোলানাথপুর এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে ১৫টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি জানান, ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কাশিপুর গ্রামে মুক্তিযদ্ধের বীর শহীদ আবিরের সমাধি ও ভিটেমাটি ছাড়াও শহীদ আবির কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া মাদরাসা ও মসজিদসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে।
তিনি স্থায়ী সমাধান দাবি করে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি পরিকল্পিতভাবে নদী ভাঙনরোধে কাজ করে তাহলে এলাকার অনেক মানুষ বাঁচতো।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল বলেন, ‘ইতিমধ্যে নদী ভাঙনের কবলে পড়া তিনটি গ্রাম পরিদর্শন করেছি। শহীদের সমাধি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষায় উপজেলার কাশিপুর এলাকায় মধুমতি নদীতে ফেলা হবে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা জিও ব্যাগ।’
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন জানান, মধুমতি নদীতে ভাঙনকবলিত এলাকায় ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ ফেলার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে কাশিপুর এলাকায় দুটি প্যাকেজে ৭৫ মিটার করে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। অস্থায়ীভাবে শহীদ আবিরের সমাধি ও স্থাপনা রক্ষা করা যাবে। প্রতি ৭৫ মিটারে ফেলা হবে ছয় হাজার ৫০০ বস্তা জিও ব্যাগ। এই কাজ পেয়েছে ‘ন্যাচারাল এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘শিকদার এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন