‘হুন্ডি কাজলের’ জমি বিক্রি বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে

আপডেট: 06:47:25 15/10/2019



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আলোচিত সিন্ডিকেট ব্যাংকের প্রধান কাজল ওরফে হুন্ডি কাজলের উপস্থিতি দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তার জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে নিবন্ধন অধিদপ্তর বাংলাদেশ।
অধিদপ্তরের ১/১৫১১৪ স্মারকে পাঠানো চিঠির আলোকে ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল মালেক সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে ১৬ অক্টোবর বুধবার সকাল দশটার মধ্যে কোটচাঁদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত থাকতে বলেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা ৩৭২/১(৯) ও ৩৭৩/১(১০) স্মারকের চিঠিতে বলা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত ‘রেজিস্ট্রি অফিসে গায়েবি উপস্থিতি, হুন্ডি কাজলের জমি অবৈধভাবে বিক্রি’ শিরোনামে অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করতে জেলা রেজিস্ট্রারের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সে মতে ১৬ অক্টোবর কোটচাঁদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে লিখিত/মৌখিক বক্তব্য প্রদান করতে বলা হলো।
চিঠিতে কোটচাঁদপুর সাব রেজিস্ট্রার অঞ্জনারানী, জমি বিক্রেতা ফারুক আহম্মেদ কাজল, জমি ক্রেতা বলাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মিজানুর রহমান খান, একই গ্রামের শাহরিয়ার সাবিরের স্ত্রী মেহেরিন আক্তার, শহরের সলেমানপুরের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী উম্মে তাছলিমা আজাদ, দলিলের সাক্ষী কোটচাঁদপুরের রাজাপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নাজমুল, নওদা গ্রামের রজব আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান, দলিল শনাক্তকারী পাশপাতিলা গ্রামের আনসার আলীর ছেলে মিজানুর রহমান ও দলিল লেখক মল্লিকপুর গ্রামের বছির উদ্দীনের ছেলে বদর উদ্দীনকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল মালেক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসুক।’
‘দলিল বাতিলের ক্ষমতা তো আমাদের নেই। সেটা আদালত দেখবে। আমরা তদন্ত করে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে জানাবো।’
বহুল আলোচিত ফারুক আহমেদ কাজল ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ১৫৯ ও ১৬০ নম্বর দলিলে তার জমি কিছু বিক্রি করে দেন বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। কিন্তু তিনি একাধিক মামলায় আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত। জামিনে ছাড়া পেয়ে বহু আগে থেকেই তিনি নিরুদ্দেশ। তিনি এখন ভারতে অবস্থান করছেন বলে প্রচার আছে।
কাজলের সিন্ডিকেট ব্যাংকে কোটচাঁদপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মানুষ উচ্চ লাভের আশায় আমানত জমা করেছিলেন। কিন্তু ২০০০ সালের দিকে সিন্ডিকেট ব্যাংক ধসে পড়ে। এরপর জেলে যান কাজল। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়। সে সময় লগ্নিকারীদের বেশিরভাগই আমানত ফেরত পাননি; টাকার অংকে যা কয়েকশ’ কোটি।
সাজাপ্রাপ্ত সেই কাজল পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্তদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটচাঁদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এসে শত শত মানুষের সামনে কোনোভাবেই জমি রেজিস্ট্রি করতে পারেন না বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এই বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে ঝিনাইদহ পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) থেকে ৩৭৮০ নম্বর স্মারকে বিষয়টি অনুসন্ধান করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোটচাঁদপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলমকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্ত কাজ এগোয়নি।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় রিপোর্ট দিতে পারিনি।’

আরও পড়ুন