‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রসূতির মৃত্যু, ডাক্তার হেফাজতে

আপডেট: 02:21:06 15/11/2019



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলায় একজন প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ করছেন তার স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার রাতে শহরের জেল রোডে অবস্থিত ‘বন্ধন’ নামে ওই ক্লিনিকে ঘটনাটি ঘটে।
হতভাগ্য ওই প্রসূতি হলেন যশোর শহরের পালবাড়ি গাজিরঘাট এলাকার ইসমাইল হোসেন হিরুর স্ত্রী ময়না খাতুন (২৬)।
তার ভাই শিমুল পারভেজ সুবর্ণভূমিকে বলেন, বোনের প্রসববেদনা ওঠায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে শহরের বেসরকারি ‘কুইন্স হসপিটাল’-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর কুইন্স হসপিটালের নার্স সুরাইয়া জানান, পাশের বন্ধন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঢাকা থেকে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ এসেছেন। তার কাছে গেলে ভালো হবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে বন্ধনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ডাক্তার পরিতোষকুমার কুণ্ডু জানান, ‘রোগীর অবস্তা ভালো না। এই মুহূর্তে তার সিজার করা লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আগে আল্ট্রাসনো করা হয়েছিল। ডেলিভারি ডেট আরো তিন দিন বাকি ছিল। কিন্তু ডাক্তার নতুন করে আল্ট্রাসনো কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই আমার বোনকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওটিতে নিয়ে যান। এমনকী তিনি আমাদের কারও কাছ থেকে কোনো বন্ড সইও করাননি। সিজার করেই ডাক্তার বেরিয়ে চলে যান। ২০-২৫ মিনিট পরেই বোনের খিঁচুনি ওঠে এবং তিনি মারা যান।’
‘সিজার শেষে বোনের অবস্থা যখন খুব খারাপ, তখন নার্সরা আমাদের ব্লাড সংগ্রহ করতে বলেন। এক ব্যাগ রক্ত আনা হয়। পরে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নার্সরা আরো কয়েকটি ইনজেকশন এবং রক্ত আনার কথা বলেন। কিন্তু সেইসময় আমার দুলাভাই বোনের হাত-বুক পরীক্ষা করে দেখেন, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু হাসপাতালের নার্স ও কর্মীরা মৃত অবস্তায় বোনের শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন। এমনকী তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারা ৩-৪ মিনিটের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্সও ম্যানেজ করে ফেলেন। এ অবস্থায় রাত ১১টার দিকে আমরা কোতয়ালী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই।’
এই বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার পরিতোষ কুণ্ডু সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘‘রাত দশটার দিকে সিজার করা হয়। সুন্দরভাবে সিজার হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা হয়নি। অতিরিক্ত ব্লিডিং হয়নি এবং অজ্ঞানের ডাক্তারও জানান, কোনো সমস্যা হয়নি। অপারেশনের পর সেলাই করে দিয়ে আমি চলে গেছি। এরপর তাকে পরিষ্কার করে বেডে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে, ‘রোগী খারাপ, তাড়াতাড়ি আসেন বলে।’ আমি ইমার্জেন্সি কিছু ড্রাগ ব্যবহারের কথা বলে দিই। আমাদের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ওখানেই থাকে। সেও এসেছে, আমিও এসেছি। আমরা চেষ্টা করেছি। যা করণীয় তা  করেছি। তো তার কিছুক্ষণ পর মারা যায়।’
ডাক্তার বলেন, ‘আট বছর আগে ওনার একটা বাচ্চা আছে। আর আট বছর পর... এটা বিরাট গ্যাপ। আর উনি মারা গেছে শ্বাসকষ্টের কারণে। রোগীর যে শ্বাসকষ্ট ছিল, সে কথা স্বজনরা আগে জানায়নি।’
কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) তাসমীম আলম বলেন, ‘রাতে উত্তেজনা হচ্ছিল। আমরা ডাক্তার ও ম্যানেজারকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে আসি। যদি ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দেয় তাহলে মামলা হবে।’

আরও পড়ুন