‘ভালো লাগে নাগরদোলায় চড়তে, পুতুল কিনতে’

আপডেট: 08:51:10 18/01/2020



img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : বাঙালি জীবনের সঙ্গে মেলার যোগ দীর্ঘদিনের। আর লোকজ মেলা হলে তো কথাই নেই।
গ্রামাঞ্চলের মানুষ সারাদিন মাঠে-ঘাটে পরিশ্রম করে একটু প্রশান্তির জন্য বিনোদন খুঁজতেই পারে! আর সেটা যদি হয় আশেপাশের দশগ্রামের মিলনমেলা- তা হলে তো কথাই নেই। এমনই একটি মেলা বসেছে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা এগারখান-বাঁকড়ি স্কুল-সংলগ্ন ফসলি মাঠে।
তেভাগা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা অমল সেন স্মরণোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার বসেছে এই মেলা। গ্রাম্য এ মেলা বা আড়ং আটপৌরে জীবনে যেন বয়ে এনেছে মিলনের মহালগ্ন। নারী-পুরুষ ভেদাভেদ ভুলে তারা আসছেন মেলায়। পুরুষেরা পরিচ্ছন্ন পোশাক আর সব বয়সী নারীরা লাল শাড়ি, লাল টিপ কিংবা বাসন্তি রঙ শাড়িতে নিজেকে সাজিয়ে আসছেন মেলায়। এগারখান-বাঁকড়িবাসী তো বটেই- এ উৎসবে মিলিত হয়েছেন আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ। বিভিন্ন জেলা থেকেও আসা দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন মেলায়। লাল পতাকাবাহী মানুষের আনা-গোনা দোকানিদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
মেলায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্যের সমাহার ঘটেছে। বিভিন্ন খাবারের দোকান, ওজন মাপার যন্ত্র, শীতের পোশাক, হস্তশিল্পজাত জিনিসপত্রও মিলছে মেলায়। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা।
পাশের দোগাছি গ্রামের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরভি মেলায় এসেছে তার দুই বান্ধবী অহনা আর পড়শিকে নিয়ে। তিন বান্ধবী সেই ছোট্টবেলা থেকে এই মেলায় আসে। প্রতিবারই ব্যাপক লোক সমাগম হয় বলে জানালো তারা। মেলায় তাদের ভালো লাগে নাগরদোলায় চড়তে, পুতুল কিনতে আর ফুচকা খেতে।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলা থেকে ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে মেলায় বসেছেন পঞ্চাষোর্ধ্ব আব্দুল গফফার। ১২ বছর ধরে তিনি অমল সেন স্মরণমেলায় ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র নিয়ে আসছেন। মেলার দুই দিনে তার ছয় থেকে সাত হাজার টাকা আয় হওয়ার কথা বলে জানালেন তিনি।
আর স্থানীয় বাঁকড়ি গ্রামের অম্বিক বিশ্বাস (৪৬) ১৫ বছর ধরে অমল সেন স্মরণমেলায় বিক্রি করছেন মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্য। দুই দিনের এ মেলায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করবেন বলে আশা তার।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা দীপালিরানী (৪০) ঝুড়ি, চালন, কুলা নিয়ে এসেছেন মেলায়। বেচা-বিক্রি ভালো হওয়ায় গত চার বছর ধরে তিনি এসব পণ্য নিয়ে দোকান সাজান এখানে। একই ধরনের পণ্যের কারবারি যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুরের কেসমতি বালা (৪৫)। ৫-৬ বছর ধরে এ মেলায় পণ্য নিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় বাজারের চেয়ে মেলায় পণ্য বেচলে লাভ বেশি হয় বলে জানালেন এই দুই নারী। বললেন, সেই কারণেই প্রতিবার আসা।
তবে, নামে লোকজ মেলা হলেও প্লাস্টিক বা নানা ধাতুর তৈরি পণ্যের দৌরাত্ম্যে কুটিরশিল্পজাত জিনিসপত্র ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। যদিও দা-বঁটিসহ নিত্যপণ্যের দোকানে তুলনামূলক বেচাবিক্রি বেশি বলে মেলা ঘুরে দেখা যায়।