‘এবছরই সরকারের শেষ সময়’

আপডেট: 08:53:43 27/02/2021



img

খুলনা অফিস : অনুমতি না পেলেও খুলনায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে বিএনপি। দুপুরে এই সমাবেশস্থলে আসার সময় নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন।
খুলনা মহানগরের দুই স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা দেয়নি। পরে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনা শহরের কেডি ঘোষ রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি।
এর আগে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মহানগরীর প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। সমাবেশে যোগ দিতে আসার সময় নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। বাধা সত্ত্বেও সমাবেশে দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
বিকেল তিনটায় সমাবেশ শুরুর আগেই পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। এর আগে সকালে রাজধানী থেকে খুলনার সমাবেশে যোগ দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সমাবেশ পণ্ড করার জন্য পুলিশ বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভয়-ভীতি এবং দুদিনে ৩১ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তারপরও মহাসমাবেশ সফল করেছে।
তিনি পুলিশি তৎপরতাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের খাবার হোটেলে পুলিশ তালা দিয়েছে। খেয়াঘাট-বাস বন্ধ করে দিয়েছে। এটি তাদের প্রতিহিংসার ফল। আগামীতে নির্বাচনকে অর্থবহ করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের দাবি করেন এই নেতা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে। আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটে কখনো ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিনাভোটে-বিনা পরিশ্রমে তারা এমপি বানিয়েছে। একজন এমপি বা একজন মেয়র হতে হলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ জনগণের খেদমত করতে হয়। জনগণের খেদমত করে একটা সিট আসে। আর এরা জনগণের কাছে যায় না, এমনিতেই এমপি-মেয়র হয়।
খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশের শাহাজাহান ওমর আরো বলেন, মেজর জিয়ার খেতাব বাতিলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ অচিরেই আন্দোলন গড়ে তুলবে। ব্যাংক লুটকারী ও জাতীয় সম্পদ লুটকারী আওয়ামী লীগের পতনের সময় এসেছে। সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খুলনার মহাসমাবেশে কর্মীদের আসতে পথে পথে বাধা দিয়েছে। তারপরও হাজার হাজার জনতা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে।
তিনি বলেন, এবছরই সরকারের শেষ সময়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। ১৬ কোটি মানুষ ভোট দিতে পারছে না। রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়ে দলের এমপি বানিয়েছেন। তারাই ব্যাংক লুট করছেন। শেয়ারের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ প্রশাসন দেশকে সর্বনাশের দিকে নিয়েছে।
এছাড়াও সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ মশিউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশালের মেয়র প্রার্থী মুজিবর রহমান সরোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়াল, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী রুমি, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি সোহরাব উদ্দীন, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবৃদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

আরও পড়ুন