‘এই জায়গায় আমি মাকে হারিয়েছি’

আপডেট: 02:52:42 11/09/2021



img
img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের লাউদিয়া এলাকায় রাস্তার পাশের একটি বড় মেহগনিগাছের সাথে কাঠের একটি ফ্রেমে লাল ব্যানার লাগানো রয়েছে। সেখানে লাল আর সাদা রং দিয়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘দয়া করে গাড়ী ধীরে চালান, এই জায়গায় আমি আমার মাকে হারিয়েছি। (আসিফ আহমেদ পাপ্পু)।’
দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে ছেলে আসিফ আহমেদ পাপ্পু করুণ আহ্বানসম্বলিত ব্যানারটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন অজ্ঞাত সময়ে। রাত বা দিন, ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গাছে এ ব্যানারটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
সড়কের ওই স্থানে গিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর দিনটি ছিল শনিবার। সেদিন বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহর থেকে তিন চাকার একটি যান (মাহেন্দ্র) যাত্রী নিয়ে কালীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঝিনাইদহ সদরের লাউদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পেছন থেকে আসা বালিবোঝাই একটি ট্রাক মাহেন্দ্রটিকে ধাক্কা দিয়ে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সংঘর্ষে মাহেন্দ্রর তিন নারী যাত্রী নিহত হন। সে সময় নিহতদের মধ্যে পলি খাতুন নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর দুই নারী অজ্ঞাত থেকে যান। ওই দুর্ঘটনায় আহত হন আরও নয় মাহেন্দ্র যাত্রী। আহতদের মধ্যে ছিলেন ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিপাড়ার রাজু আহম্মেদ, রিহান উদ্দিন, সাব্বির হোসেন, কাঞ্চননগর এলাকার আবির হোসেন, লাউদিয়া এলাকার রাজা মণ্ডল, গড়িয়ালা গ্রামের আব্দুর রহিম, মনছুর আলী প্রমুখ।
ওই এলাকার রাজা মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বড় গাড়ি বা ট্রাক রাস্তার ছোট গাড়িকে তোয়াক্কাই করে না। সেদিন মাহেন্দ্র গাড়িতে অনেকে ছিলেন। মাহেন্দ্রর পেছন থেকে যখন ট্রাক ধাক্কা দেয়, তখন মাহেন্দ্র থেকে ছিটকে পড়েন অনেকে। রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায় মাহেন্দ্রটি আর ট্রাক তার ওপর পড়ে। সেখানেই মারা যান তিন যাত্রী। তাদের মধ্যে পরিচয় মেলে সদর উপজেলার গড়িয়ালা গ্রামের আলাউদ্দিনের স্ত্রী পলি খাতুনের।’
‘শুনেছি পলির বড় ছেলে ঢাকায় থাকে। ছোট ছেলে নানা বাড়িতে পড়ালেখা করছে। আর তাদের বাবা কাজের জন্য বাইরে বাইরে থাকে। পরিবারটি এখন ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে,’ বলছিলেন রাজা।
এ সড়কে চলাচল করা সাকিব নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ব্যবসার কাজে আমি সপ্তাহে তিন দিন কালীগঞ্জে যাই এ সড়ক দিয়ে। তবে বেশ কিছু দিন ধরে চোখে পড়ছে এ ব্যানারটি। ব্যানারটি দেখে আমারও মন খারাপ হয়েছে। আমিও এখন এ পথ দিয়ে সতর্কভাবে বাইক চালিয়ে যাই।’
তিনি জানান, এ ব্যানারের ছবিটি কেউ তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন। সাথে সাথে সেটি ভাইরাল হয়ে গেছে।
ওই এলাকার মেহেদী নামে এ ব্যক্তি বলেন, ‘ছেলেটি মা হারিয়েছে। সে বুঝতে পারছে মা হারোনোর কী যন্ত্রণা। তাই তো কোনো এক সময় এখানে সে ব্যানারটি ঝুলিয়ে দিয়েছে। পাপ্পুর আশা, আর কাউকে যাতে তার মতো কষ্ট পেতে না হয়। ব্যানারটি দেখে চালক-পথচারীরা সচেতন হবে। এ কারণে হয়তো ছেলেটি এটি লিখে ঝুলিয়ে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন