‘এইবারই প্রথম কেউ আমাগের মুরগি দিলো’

আপডেট: 03:06:54 23/05/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : ‘করোনা শুরুর পর থেকে কয়েক জায়গাততে কিছু সহযোগিতা পাইছি। অন্যবারের ঈদিও সেমোই, চিনি, পাইছি; কিন্তু মুরগি কেউ দিইনি। এইবারই প্রথম কেউ আমাগের মুরগি দিলো। লোকের বাড়ি কাজ করতাম। করোনার কারণে এখন কাজ বন্ধ। স্বামী রাজমিস্ত্রির যোগালে। তারও কাজ বন্ধ। মুরগি পাইয়ে খুব ভালো হইয়েছে। ঈদির দিন ছেলে-পিলের মুখি গোসত দিতি পারবানে।’
করোনার কারণে কর্মহীন দুই সন্তানের জননী বুলবুলি আজ শনিবার দুপুরে ঈদ উপহার হিসেবে পোলাওয়ের চাল, সেমাই, চিনি, দুধ, মসলার সঙ্গে মুরগি পেয়ে খুশিতে এই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করলেন।
ঈদে খাদ্যসামগ্রীর সঙ্গে মুরগি পেয়ে খুশি তিন সন্তানের জনক আলতাফ হোসেন। প্লাস্টিক ফেরি করে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করেন তিনি। করোনায় তার সেই ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ। তার সঙ্গে মা-বাবাও থাকেন।
তিনি বললেন, ‘সবাই শুধু সেমোই, চিনি, চাইল, তেল, দেয়। কিন্তু ঈদির দিন ইট্টু গোসত হলি বাড়ির ছেলে-পিলে কী যে খুশি হয়! ইনারা সেই গোশতর ব্যবস্থাও কইরে দিলো। আল্লা ইনাগের ভালো করুক।’
শুধু বুলবুলি বা আলতাফ নন, এমন ঈদ উপহার পেয়ে তাদের মতো খুশি যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার আরো শ’পাঁচেক কর্মহীন মানুষ। অসহায় কর্মহীনদের জন্য এসব খাদ্যসামগ্রীর আয়োজন করেন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল। করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে তিনি এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।
আজ শনিবার ঈদসামগ্রী বিতরণের সময় জুয়েলের বোন একই এলাকার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
কথা হয় জুয়েলের সঙ্গে। বলেন, ‘মহামারী করোনা শুরুর পর মানবিক দুর্দশা লাঘবে নিজ উদ্যোগে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী, সাবান, স্যানিটাইজার সহায়তার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তি উদ্যোগে সীমাবন্ধতার কারণে বেশি দূর এগোতে পারছিলাম না। বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ, রাজনৈতিক নেতা, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী সবাই কমবেশি এগিয়ে এসেছেন। সেই কারণে গত দুইমাসে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছ দিতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘করোনায় মৃতদের জন্য আমাদের প্রশিক্ষিত দাফন দল রয়েছে। দলে ১২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী সদস্য। দাফন যোদ্ধাদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও আমরা করেছি। করোনার সাথে আম্পানের ভয়াবহতার মাঝে ঈদকে সামনে রেখে অন্য খাদ্যসামগ্রীর সাথে একটা করে মুরগির ব্যবস্থাও করেছি।’