১৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়া

আপডেট: 08:44:27 24/02/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে তিন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
তাদের সঙ্গে গ্রেফতার দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে এক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার দুজন মহানগর হাকিম সোমবার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া ওরফে পিউসহ ওই চারজনকে শনিবার ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সেসময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট,  দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট’ ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটির টাকার ওপরে।
রোববার ওয়েস্টিনের ওই প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট এবং ইন্দিরা রোডে পাপিয়াদের দুটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট ও কিছু বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করার কথা জানায় র‌্যাব।
পরে রোববার রাতে পাপিয়াসহ গ্রেফতার চারজনকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। জাল মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় ওই থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে চারজনকেই আসামি করা হয়।
এছাড়া অস্ত্র ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আরো দুটি মামলা করা হয় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
সোমবার ওই চারজনকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে তিন মামলাতেই দশ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ।
বিমানবন্দর থানার জাল নোটের মামলায় চার আসামিকেই পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদ-উর রহমান।
পরে মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম অস্ত্র ও বিদেশি মদের মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামীকে পাঁচ দিন করে মোট দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করেন তাপসকুমার পাল, আজাদ রহমান ও হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চান আইনজীবী আতিকুর রহমান, ইলতুৎমিশ সওদাগর, কলিম মৃধাসহ কয়েকজন।
রোববার র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর ঢাকা ও নরসিংদীতে পাপিয়ার নিজের বাড়ি, বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
ঢাকার ইন্দিরা রোডে ওই দম্পতির দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নরসিংদী শহরে দুটি ফ্ল্যাট, গাড়ি, নরসিংদীর বাগদী এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট রয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও এফডিসি গেট-সংলগ্ন এলাকায় 'কার এক্সচেঞ্জ' নামমে একটি গাড়ির দোকানে প্রায় এক কোটি টাকা এবং ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশনস' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ আছে তাদের।
দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ওই দম্পতির বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা থাকার তথ্য মিলেছে জানিয়ে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী নরসিংদী এলাকায় ‘অস্ত্র ও মাদকের কারবার, চাঁদাবাজি, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্নভাবে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে’ বিপুল সম্পদ গড়েছেন। 
“এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে আসামিরা পুলিশের এসআই ও বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছে বলে জানা যায়।”
ওই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট পেশা না থাকলেও স্বল্প সময়ে বিশাল সম্পত্তি ও অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন পাপিয়া ও তার স্বামী। এই বিশাল অর্থের প্রকৃত উৎস জানতে চাওয়া হলে সন্তোষজনক কোনো জবাব তারা দিতে পারেননি।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন