সড়ক চকচকে কিন্তু কালভার্ট ভাঙা

আপডেট: 01:49:58 11/10/2021



img
img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ: চার কিলোমিটার পিচঢালা মসৃণ সড়ক, তবুও মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। একটি ভাঙা কালভার্টের কারণে ভ্যান-রিকশা ছাড়া কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না ওই সড়কটিতে। অতিরিক্ত চার কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয় শৈলকুপা-নাগিরহাট সড়কটির দুই পাশের বাসিন্দাদের। তাদের দাবি, এই অবস্থা দীর্ঘদিন চললেও সংস্কারের উদোগ নেই।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা শহরের সঙ্গে নাগিরহাট এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান সড়ক নাগিরহাট-শৈলকুপা সড়ক। শহর থেকে নাগিরহাট বাজারের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। এই চার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে গ্রাম রয়েছে নয়টি। গ্রামগুলো হচ্ছে ফাদিলপুর, হিতামপুর, মনোহরপুর, বিজুলিয়া, দামুকদিয়া, লক্ষ্মীপুর, মাধবপুর, বিষ্ণুদিয়া ও নাগিরহাট। এই চার কিলোমিটারের মধ্যে নাগিরহাট ও সীমান্তবাজার নামে দুটি বাজার রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে উপজেলা শহরের বড় বাজারটি।
দামুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তাদের গ্রাম ছাড়াও বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ওই সড়কের পাশের গ্রামগুলোতে বসবাস করেন। যারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও তাদের দৈনন্দিন কেনাকাটায় এই সড়কই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের মাঝের একটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় তারা চলাচল করতে পারছেন না। রিকশা-ভ্যান আর বাইসাইকেল ছাড়া কিছুই চলতে পারে না সড়কটি দিয়ে। একটি কার বা পণ্যবাহী কোনো ট্রাকও ভাঙা কালভার্টের কারণে গ্রামে ঢুকতে পারে না।
আবু জাফর নামে আরেকজন জানান, শৈলকুপা-নাগিরহাট সড়কটি পিচঢালা সড়ক। তিন বছর হয়েছে সড়কটি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ পাকা করেছেন। বর্তমানে খুবই সুন্দর সড়ক এটি। কিন্তু দামুকদিয়া মাঠের মধ্যের এই কালভার্টটি ভেঙে পড়ে আছে প্রায় এক বছর। আর এই ভাঙা কালভার্টের কারণে হাজার হাজার মানুষ কষ্ট করছেন। তারা কোনো যানবাহন নিয়ে গ্রামে ঢুকতে পারেন না।
শৈলকুপা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানান, তার বাড়ি এই ইউনিয়নে। তিনি মাঝে মধ্যেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। সুন্দর একটি সড়ক অচল করে রেখেছে একটি ছোট ভাঙা কালভার্ট। আর এই ভাঙার কারণে সড়কটির পাশের গ্রামগুলোতে কোনো যানবাহন ঢুকতে পারে না। বিপদের সময় পুলিশের বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে হলে আরো চার কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। বিজুলিয়া হয়ে পূর্ব দিকের একটি সড়ক ঘুরে নাগিরহাট বাজার হয়ে উল্টো গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতে হয়।
তিনি আরো জানান, সড়কটির এই অবস্থার বিষয়ে তারা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার করা হোক।
এলজিইডি শৈলকুপা উপজেলা দপ্তরের নকশাকার আলমগীর হোসেন জানান, আটটি কালভার্ট মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দামুকদিয়া মাঠের মাঝের এই ভাঙা কালভার্টটিও রয়েছে। ইতিমধ্যে এগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী রওশন হাবিব জানান, তারা আশা করছেন দ্রুতই এই ভাঙা কালভার্টের কাজ শুরু করতে পারবেন।

আরও পড়ুন