স্কুলের সম্পদ আত্মসাৎ, শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: 10:05:28 08/03/2021



img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : প্রায় দেড়শ' বছর আগে শহরের প্রাণকেন্দ্রে তিন একর জমির ওপর স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া হাইস্কুলের ভূ-সম্পত্তিসহ অবকাঠামো আত্মসাৎ এবং অজ্ঞাত কোটি টাকার সম্পদ আহরণের দায়ে প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান (৫৭) ও তার স্ত্রী বিলকিস রহমানের (৪৭) বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক।
সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) তহিদুল ইসলামের আদালতে মামলা দুটি আমলে নেওয়া হয়। এর আগে দুদক কুষ্টিয়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া স্বাক্ষরিত এজাহারটি আদালতে দাখিল করেন দুদকের আইনজীবী আল-মুজাহিদ মিঠু।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৮অক্টোবর হতে ২০২০ সালের ১৮আগস্ট সময়কাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের স্ত্রী শহরের ১৭/৩, জাহের আলী সড়ক, পেয়ারাতলার বাসিন্দা বিলকিস রহমান (৪৭) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬৪ টাকা আহরণ করেছেন। তদন্তকালে তিনি প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি; যা দুদক আইন ২০০৪ এর দ.বি. ২৬(২) এবং ২৭(১) তৎসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সুষ্পষ্ট লংঘন।  
একইভাবে প্রধানশিক্ষক সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা ময়েন উদ্দিন আহমেদের ছেলে মো: খলিলুর রহমান ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হতে ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট সময়কালের মধ্যে ৫২ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৯ টাকা আয়ের বৈধ কোন উৎস দেখাতে ব্যর্থসহ তদন্তকালে সদুত্তর দিতে না পারায় তিনি স্ত্রী বিলকিস রহমানের মতই অভিন্ন ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পৃথক আরও একটি মামলা করেছে দুদক।
এদিকে, কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতকোটি টাকার সম্পদ প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রভাবশলী মহলের ইন্ধনে লুটপাট ও আত্মসাতের ঘটনায় এতোদিন মুখ খুলতে পারেনি শহরবাসী। দুদকের এই মামলা দায়েরের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শহরবাসীর আনন্দে মিষ্টিমুখ করার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এসএম কাদরী শাকিল বলেন, অনেক দেরিতে হলেও দুদকের এই পদক্ষেপে আমি খুশি। আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তোলা দরকার। সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ বিদ্যালয়টিকে রক্ষার দাবি জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চিকিৎসক নেতা আমিনুল হক রতন বলেন, এতোদিন ধরে আমাদের চোখের সামনে তিল তিল করে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। আমরা অনেকেই দেখেছি; কিন্তু কেউই মুখ খুলতে পারিনি। এই প্রতিষ্ঠানটি এখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শহরবাসী জানতে চায়, প্রকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠানটির কী পরিমাণ সম্পদ লুটপাট হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান।
দুদকের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের ফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. একেএম মুনির বলেন, 'দুদকের মামলার বিষয়ে শুনেছি। এটা প্রধানশিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয়। স্কুলের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই; তাছাড়া দুদক যে মামলা করেছে তার মেরিট দুর্বল। এ মামলায় শেষ পর্যন্ত কিছু হবে না।'

আরও পড়ুন