স্কুলমাঠের এ কী হাল!

আপডেট: 08:28:14 11/09/2021



img

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জেলার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে খেলার মাঠটিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় মশা-মাছির অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানি জমে পচা পানিতে দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। মশা-মাছি ও কীট-পতঙ্গ এমনকি জলজ সাপও এখানে অবাধে বিচরণ করে।
এ কারণে আজ ১২ সেপ্টেম্বর সরকারি নির্দেশে সারাদেশে স্কুল খোলার কথা থাকলেও এ স্কুলটিতে ক্লাসের পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন একাধিক অভিভাবক ও ছাত্রী। এদিকে স্কুল ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতায় স্কুল-সংলগ্ন কলেজপাড়া, জেলাপাড়ার বাসিন্দারাও সংকটে রয়েছেন।
অভিভাবক আব্দুস সবুর ও চম্পা দাস জানান, সরকারি নির্দেশে রোববার স্কুল খোলার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে স্কুলের ক্লাসরুম ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হলেও স্কুল ক্যাম্পাসে প্রায় ছয় মাস ধরে জমে থাকা পানি নিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি ইতিমধ্যে পচে গেছে। এটি এখন মশা মাছি ও বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।
দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায়  এবং স্কুল কম্পাউন্ডের এই অবস্থা হওয়ায় ছাত্রীদের স্বাস্থ্য নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন এই দুই অভিভাবক। তারা দ্রুত এখানকার পানি নিষ্কাশন করে ওষুধ ছিটিয়ে এলাকাটি পরিশোধন করে ছাত্রীদের শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি করেন।
এ স্কুলের নিঝুম, তুলি, অনিকাসহ আরো কয়েক শিক্ষার্থী জানায়, দীর্ঘদিন পর স্কুলে যেতে পারবে জেনে তারা খুবই আনন্দিত। কিন্তু মাঝে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে স্কুলে গিয়ে তারা দেখেছে স্কুলমাঠের পানি পচে খুবই খারাপ অবস্থা। স্কুলের খেলার মাঠে এখন কোমরসমান পানি।
সরকারি বালিকা বিদ্যালয়-সংলগ্ন জেলাপাড়ার বাসিন্দা অধ্যক্ষ (অব.) কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলের খেলার মাঠটি এখন জনউপদ্রবে পরিণত হয়েছে। এটি এখন মশা, মাছি, সাপের আশ্রয়স্থল। কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ অবস্থার উত্তরণে ব্যবস্থা নেবে বলে তার প্রত্যাশা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নির্মলচন্দ্র জোয়ারদার বলেন, ‘খেলার মাঠে পানি জমে যাওয়া এ স্কুলের দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমি ইতিমধ্যে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলমকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাগুরার পৌরসভার মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল জানান, পৌরসভার ড্রেনের চেয়ে ওই মাঠটি নিচুু। সেকারণে মাঠের পানি ড্রেনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে দুটি পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন