সেবাধর্মী কাজে অনন্য মাহফুজ-চামেলি দম্পতি

আপডেট: 04:08:20 24/07/2020



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়া পৌর এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন মাহফুজুর রহমান মাসুদ। সরকারি চাকরি করেও যে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, তা তিনি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। পরিণত হয়েছেন করোনাকালে অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থলে।
লোহাগড়া পৌর এলাকার মশাঘুণি এলাকার শিক্ষক দম্পতি শহিদুর রহমান-রোকেয়া বেগমের ঘরে ১৯৮০ সালের ১৪ এপ্রিল মাহফুজ জন্মগ্রহণ করে। শিক্ষক দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে মাহফুজ জ্যেষ্ঠ। ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক ও যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে লোক প্রশাসন বিভাগে লেখাপড়া শেষ করে কর্মের খোঁজে ঢাকায় পাড়ি জমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী মাহফুজ পরিশ্রম ও মেধা গুণে আজ ভালো একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করেছেন। শিক্ষার্থীদের জব ক্যারিয়ার গঠনে রাখছেন ইতিবাচক ভূমিকা। বিসিএস ক্যাডার তৈরিতেও তার অবদান কম নয়। তার পরামর্শ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় অনেকেই আজ নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা গরিব, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের পাশে থেকেছেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষ জন্মস্থান নড়াইলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ছুটি পেলেই ছুটে আসেন জন্মভূমিতে। অসহায় ও দরিদ্রদের খোঁজ-খবর নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
২০১২ সালে মাহফুজ বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশনে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এলাকার অনেক অভিভাবক যখন তাদের সন্তানদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত, তখন ক্যারিয়ার স্পেশালিস্ট মাহফুজ তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে আলোর পথ দেখান।
মাহফুজের বাবা-মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা শেষে দুইজনই অবসরে গেছেন। অনেক কষ্ট করে চার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করেছেন। আলোকিত মানুষ হিসেবে তাদের বাবা-মায়ের খ্যাতিও রয়েছে। মাহফুজ নিজের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে অবিচল থেকেছেন। মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও রতœগর্ভা মায়ের আদরের ধন মাহফুজ তার দুই ভাইকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। মাহফুজের ছোট দুই ভাই শেখ মো. রাসেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষ করে বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। আরেক ভাই মাহমুদুর রহমান মামুনও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি বিভাগে পড়ালেখা শেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একমাত্র ছোট বোন রোমানা শারমিন রেশমা ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন।
গত মার্চ মাসে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মাহফুজ-চামেলি দম্পতি এলাকার অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। নিজেদের পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেন। করোনাকালে অসহায় মানুষদের মাঝে আট টন চাল, ঈদ সামগ্রী, বহু মাস্ক, হ্যন্ড স্যানিটাইজার, পৌর এলাকার এক বছর বয়সী শিশুদের মাঝে শিশুখাদ্য ও প্রত্যেক মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, কর্মহীন নরসুন্দর, চা দোকানি ও পৌর এলাকার দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। মাহফুজ এখন করোনায় আক্রান্ত মানুষের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ঝুঁড়িভর্তি ফল।
মাহফুজের এ মহতী কাজের সঙ্গী তার সহধর্মিনী তিন সন্তানের জননী রোজিয়া সুলতানা চামেলি। স্বামীর প্রতিটি কাজে সহয়োদ্ধা চামেলি যশোর মহিলা কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ‘আনিসা এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘আদৃতা প্রকাশনী’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংসার দেখাশোনার পাশাপাশি তিনিও অসহায় মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ।
মাহফুজ-চামেলি দম্পতির জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব নেটিজেনরা।
এ প্রসঙ্গে সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, ’যোগ্য বাবা-মায়ের যোগ্য সন্তান।’
ঢাকা জেলা জজকোর্টের সিনিয়র জজ তসরুজ্জামান বলেন, ’মাহফুজ একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভালো সংগঠক ও মেধাবী চিন্তার মানুষ।’
মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাঝে। বিনয়ী, আত্মপ্রত্যয়ী ও সৃজনশীল মাহফুজ-চামেলি দম্পতির মানবিক কার্যক্রম আলোকিত সমাজ গঠনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে- মনে করেন সাধারণ মানুষ।