সাহেদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সতর্ক ইমিগ্রেশন পুলিশ বিজিবি

আপডেট: 03:40:07 09/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : কোভিড-১৯ পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণা করা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন বিভাগকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়। পুলিশের এআইজি সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং যশোরস্থ ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এই ‘প্রতারক’ যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, তার জন্য সতর্ক রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে।
সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির পর তার সম্ভাব্য দেশত্যাগ ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আহসান হাবিব বলেন, ‘সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আমাদের কাছে বুধবার সন্ধ্যায় এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাহেদ যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।’
যশোর ৪৯বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, কেউ যাতে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি রয়েছে।
যুগান্তরের রিপোর্টে বলা হয়, গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র্যা ব। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রিজেন্টের প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেওয়া হয়।
৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ নয়জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় সাহেদের প্রধান সহযোগী ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তারেক শিবলীকে।
আজ সাহেদের ভায়রাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি সাহেদ। এ অবস্থায় তার দেশত্যাগের আশঙ্কা থেকে যায়। তাই তাকে দেশত্যাগ করতে না দিতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার ছেলে সাহেদ ১৯৯৯ সালের এসএসসি পাশ করার পর রাজধানীতে পাড়ি জমান। তার মা সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ভারত থেকে আসা এই পরিবারের কেউ এখন সাতক্ষীরায় থাকেন না। কয়েক বছর আগে সাহেদ সাতক্ষীরা শহরে তাদের সুপার মার্কেট বিক্রি করে ঢাকায় পুরোপুরি সেটেল হয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটিরও সদস্য হন। সাতক্ষীরায় তার বন্ধুরা জানান, নানা অপকর্মের কারণে বেশ কয়েকবছর তারা সাহেদকে 'চিটার সাহেদ' হিসেবে চিনতেন।

আরও পড়ুন