সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ২০ শিক্ষককে দুদকে তলব

আপডেট: 07:26:38 22/01/2021



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : দুর্নীতির অভিযোগে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ২০ শিক্ষককে দুদকে তলব করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ ও ২১ জন শিক্ষককে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রেজুলেশন কাটা-ছেড়া করে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের তলব করেছে।
প্রথম দফায় ১৭ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুদকের ঢাকা অফিসে ডেকে কলেজের দশ প্রভাষকের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো দশ শিক্ষককে দুদকে তলব সংক্রান্ত চিঠি গত বুধবার সিটি কলেজে এসে পৌঁছেছে।
গত ১১ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষকে দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা প্রবীরকুমার দাশের দেওয়া চিঠিতে অধ্যক্ষ আবু সাঈদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিধিবহির্ভূতভাবে রেজুলেশন জালিয়াতি করে শিক্ষক নিয়োগ ও অনিয়মের মাধ্যমে ১৬ শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি তদন্তের জন্য দশ শিক্ষককে ঢাকায় তলব করা হয়। দুদক কর্মকর্তা প্রবীরকুমার দাশ গত বছরের ২২ ডিসেম্বর সাবেক অধ্যক্ষ এমদাদুল হক ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুকুমার দাসকে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসের রেস্ট হাউজে ডেকে সিটি কলেজের দুর্নীতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য অবগত হন।
ইতোমধ্যে দুদকে সাক্ষ্য দেওয়া দশ শিক্ষকের মধ্যে পাঁচজনের কাগজপত্র জাল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ হয়েছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। দুদকের এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় কলেজের অধ্যক্ষসহ মোট ২১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৪ জুলাই দুদকের হটলাইনে শিক্ষক্ষ বিধানচন্দ্র দাসের অভিযোগের পর তদন্ত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি থেকে এ সকল শিক্ষককে তদন্ত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি থেকে লিখিত বক্তব্য দিতে হচ্ছে।
যে সকল শিক্ষককে ১৭ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয় তারা হলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দা সুলতানা, পদার্থবজ্ঞান বিভাগের আজিম খান, ইংরেজি বিভাগের এএসএম আবু রায়হান, ইতিহাস বিভাগের মো. জাকির হোসেন, রসায়ন বিভাগের মোছা. নাজমুন্নাহার, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অরুণকুমার সরকার ও রুনা লায়লা, দর্শন বিভাগের শেখ নাসির উদ্দিন, বাংলা বিভাগের মো. মনিরুল ইসলাম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের উত্তমকুমার সাহা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুরাইয়া জাহান।
২১ জানুয়ারি প্রথম দফায় দশ শিক্ষকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। প্রতিদিন দুইজন করে শিক্ষকের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
প্রায় চার কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যে কলেজ পরিচালনা পরিষদের তৎকালীন সভাপতি, কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ও মাউশির মহাপরিচালক, মাউশির খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ আনা হয় ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৯ সালের পহেলা আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক এনফোর্সমেন্ট মো. মাসুদুর রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিবেদন প্রেরণপূর্বক কমিশনকে অবহিতকরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
দুদকের ১০৬ হটলাইনে ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই সাতক্ষীরা সিটি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক বিধানচন্দ্র দাস অভিযোগ দাখিল করেন। পরে এই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ চাওয়া হলে অভিযোগকারী প্রভাষক বিধানচন্দ্র দাস গত বছরের ৫ আগস্ট ছয় পৃষ্ঠা বর্ণিত অভিযোগ ও শতাধিক পৃষ্ঠার তথ্যপ্রমাণসহ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর ফের আবেদন করেন; যা হটলাইনে করা অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন