সাতক্ষীরায় কৃষি ও মাছে ৩১৩ কোটি টাকা ক্ষতি

আপডেট: 02:31:59 23/05/2020



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় এখন ক্ষয়ক্ষতির হিসেব মেলানো হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, বুধবারের সাইক্লোনে সাতক্ষীরায় দুইজন নিহত ও অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ২২ হাজার ৫১৫টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ৬০ হাজার ৯১৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রবল এই ঝড়ে সাতক্ষীরা উপকূলের নদ-নদীর অন্তত ২০টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও এলজিইডির ৮১ কিলোমিটার রাস্তা।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আজ শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঝড়ে সাতক্ষীরায় ৬৫ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার আমসহ ১৩৭ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার কৃষি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ কোটি ১৬ লাখ টাকার সবজি, দশ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকার পান ও সাড়ে চার লাখ টাকার তিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা এক লাখ পাঁচ হাজার ৮৭০।
ঝড়ে ৯১টি খামার ও ৬৪০টি গবাদি পশুসহ ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৩০ টাকার গবাদি পশু এবং ৮৬টি হাঁস-মুরগির খামারসহ ৭৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬ টাকার হাসমুরগির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভেসে গেছে সাড়ে ১২ হাজার ঘের (চিংড়িসহ)। যার ক্ষতির পরিমাণ ১৭৬ কোটি তিন লাখ টাকা টাকা।
জেলা প্রশাসক বলেন, পূর্ব প্রস্তুতির কারণে আম্পানের মতো প্রবল একটি ঘূর্ণিঝড়ে সাতক্ষীরায় প্রাণহানির সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা গেছে। ঝড়ে হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ঘরবাড়িও সেই হারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এবং যেসব পয়েন্টে বাঁধ ভেঙেছিল সেসব জায়গায় মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরার আমের সুখ্যাতি আছে। ঝড়ে ফলন্ত গাছের আম, যা পাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন চাষিরা, প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ঝরে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য শাক-সবজিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, এবার ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই জেলার এক হাজার ৯০৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা ছাড়াও প্রায় ৩০ হাজার গবাদি পশুকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। কিন্তু মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, সাতক্ষীরা চিংড়িচাষ অধ্যুষিত জেলা। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে প্রবল জোয়ারে জেলার নদনদীর অন্তত ২০ পয়েন্ট ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়। এতে সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি ঘের ভেসে যাওয়ায় চিংড়িচাষিদের ১৭৬ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝড়ের আগেই জেলায় ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ৩৭৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা ও ঢেউ টিন বিতরণ করা হয়েছে।
ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন