সাঙ্গ হলো লালন স্মরণোৎসব

আপডেট: 09:47:24 18/10/2019



img
img
img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর/সেথা এক পড়শি বসত করে’।
বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের এই আধ্যাত্মিক বাণী বুকে ধারন করে বিদায় নিলেন সাধু-ফকিররা।
লালনের ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে তিন দিন আগে শুরু হয়েছিল এবারের স্মরণোৎসব। শুক্রবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল এই উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া।
সমাপনী অনুষ্ঠানে লালন অ্যাকাডেমির মূল মঞ্চে রাতের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন অ্যাকাডেমির সভাপতি মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।
আলোচনা শেষে মূল মঞ্চে লালন অ্যাকাডেমির শিল্পীরা লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন।
এদিকে উৎসব ছেড়ে অধিকাংশ সাধু-গুরুরা ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে।
১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান ঘটে। তার অনুসারীরা এই দিনটিতে লালন স্মরণোৎসবের আয়োজন করতে থাকেন। সেখানে সাধুসঙ্গই ছিল প্রধান কার্যক্রম। পরে লালন অ্যাকাডেমি ও জেলা প্রশাসন  এই লালন স্মরণোৎসবের হাল ধরে।
এবারো পথ প্রদর্শক লালনকে স্মরণ ও অবাধ্য মনকে শুদ্ধ করতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী, ভক্ত-অনুরাগী আর দর্শনার্থী এই আখড়াবাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন। লালনের রীতি অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় অধিবাস, পরদিন সকালে বাল্য ও দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ করে অনুসারীরা আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করেন। যেখানে লালন অনুসারীরা খণ্ড খণ্ডভাবে বসে সাধুসঙ্গে অংশ নেন, অডিটোরিয়ামের নিচে সেই জায়গা আজ রাতে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। আখড়াবাড়ির বাইরে কালি নদীর তীরে বাউলমেলা আজ রাতে শেষ হচ্ছে।

আরও পড়ুন