সরকারের রোষানলে হেফাজতে, কী কৌশলে নিচ্ছে সংগঠনটি?

আপডেট: 10:03:08 17/04/2021



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : বাংলাদেশে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত বা সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি চাপে পড়েছে।
সংগঠনের একজন শীর্ষ নেতা মামুনুল হককে নিয়েও হেফাজত বিব্রত। চলছে নেতাকর্মীদের ধরপাকড়।
অতীতে কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠনটি আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে নানা ধরনের দাবি আদায় করেছে।
কিন্তু পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। এটা কি সরকারের জন্য সুযোগ তৈরি করছে?
হেফাজত কীভাবে এগুতে চাইছে? তারা কি চায় ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে?

সরকারের মুখোমুখি হেফাজত
হেফাজতে ইসলাম নিজেরা মনে করছে, গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ তাদের বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। পরিস্থিতিটা হেফাজত এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় গত ২৬শে মার্চ থেকে তিন দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এবং ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে।
হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের থানা আক্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার নানা ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি হয়েছে কমপক্ষে ১৭জনের।
সেই সহিংসতার পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে একজন নারীসহ হেফাজত নেতা মামুনুল হকের অবস্থান করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
যদিও তার পক্ষ নিয়ে হেফাজতে ইসলাম ঐ ঘটনায় তাকেই হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছে।
এছাড়াও সহিংস ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে হেফাজতের অভিযোগ হচ্ছে, ঢাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার পরই বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ বা এমন অবস্থান তুলে ধরলেও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, সহিংসতা এবং মামুনুল হকের ঘটনা সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা তাদের সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য সংকট তৈরি করেছে বলেই তারা মনে করেন।
"হেফাজততো অবশ্যই সংকটে পড়ছে হেফাজত মনে করতেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও তা মনে করতেছি। কিছু মানুষ বায়তুল মোকাররমে একটা অঘটন ঘটাইছে, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে মসজিদের মতো পবিত্র জায়গায়। এটাকে কেন্দ্র করেই হাটহাজারী, বি-বাড়িয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হইচে এবং আহত-নিহত হইচে। সব মিলিয়েতো হেফাজতের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করচে" বলেন নুরুল ইসলাম জেহাদী।
তিনি আরও বলেন, "আর মামুনুল হকের ঘটনা-যদিও সেটা হেফাতের কর্মসূচিতে আসে না, তারপরও যেহেতু তিনি হেফাজতের দায়িত্বশীল (ব্যক্তি)। এটাও বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করচে অবশ্যই।"

সরকারের চাপে সংকটে হেফাজত?
হেফাজত ইসলামের বিব্রতকর অবস্থায় বা সংকটে পড়ার যে কথা তিনি বলছেন, তাতে তাদের কী সমস্যা হচ্ছে?
এই প্রশ্ন করা হলে হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, "অসুবিধা না?—যদি আমাদেরকে সরকার প্রতিপক্ষ মনে করে, আমাদের কাজেতো বাধা আসতেছে। বাধা আসাটা একটা সংকট বা বিব্রবতকর পরিস্থিতি না?"
সরকার এবং হেফাজতে ইসলাম হাত মিলিয়ে চলছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।
কিন্তু কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি দৃশ্যমান হয়েছে।
প্রায় এক দশকে এই প্রথম হেফাজতে ইসলাম বড় চাপের মুখে পড়েছে।
হেফাজতে ইসলাম মনে করছে, সরকার তাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করছে এবং সেটাই তাদের জন্য নানামুখী সংকট তৈরি করছে।
হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, তারা এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন।
"সমস্যা হচ্ছে, এখানে কিছু সরকার এবং সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ বা ছাত্রলীগ তারা হেফাজতকে প্রতিপক্ষ মনে করে ফেলতেছে। এটাও একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। আমাদের আমীরে হেফাজত ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমরা সরকার বিরোধী নই। কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো-এটা আমাদের এজেণ্ডা নয়।
"আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করাটা সরকার ঠিক করতেছে না। আমরাতো প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী হলে যারা রাজনীতি করে তারাই প্রতিদ্বন্দ্বী। আমাদেরতো রাজনীতির কোন এজেণ্ডা নাই। আমাদের এজেণ্ডা ইসলামী এজেণ্ডা। অতএব প্রতিপক্ষ মনে করাটা দুঃখজনক। এই জন্য কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। এই ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হওয়া দরকার যে কোন মূল্যে" বলেন হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম জেহাদী।
হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সেই ২০১৩ সালে সংগঠনটির ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পর থেকে।
তখন হেফাজতের নেতৃত্বে ছিলেন আহমদ শফী। তার মৃত্যুর পর গত বছর হেফাজতের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে এবং তখন থেকে শুরু হয় দু'পক্ষের সম্পর্কের টানাপোড়েন।

হেফাজতকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত
হেফাজতের নতুন নেতৃত্ব কয়েকমাস আগে যখন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সেই পরিস্থিতি আওয়ামী লীগকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে।
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং হাটহাজারীতে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সরকার এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, তারা এখন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
"দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং শান্ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, যারা ধর্মের নামে বা রাজনীতির নামে সহিংসতা করবে, সরকারি বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা জ্বালাও পোড়াও করবে-এরা নাশকতকারী, এদের কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করা-এটাই সরকারের এখন লক্ষ্য এবং সরকার সেটাই করবে।"
আওয়ামী লীগ নেতা মি: হানিফ বলেছেন, তারা আইনগতভাবেই ব্যবস্থা নিতে চান।
''আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, এই যে কয়েকদিন ধরে যে তাণ্ডব চলেছে, সেই হামলা বা নৈরাজ্যের সঙ্গে যারা যারা জড়িত, তাদের নাম ঠিকানা এমনকি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও আমরা রিপোর্ট রাখতে চাই। ভবিষ্যতে যদি হেফাজতের নামে এধরনের নাশকতাকারী রাস্তায় নামে. তাদেরকে প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের দলের নেতাকর্মীরাও শক্তভাবে প্রতিরোধ করবে," জানান মি. হানিফ।
সরকার যখন হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে, তখন দু'পক্ষের সম্পর্কে অতীত সখ্যতার বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় আসছে।
আঁতাত নাকি অন্য কিছু?
বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সব ক্ষেত্রেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হয়েছে। সে কারণে মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে।
যদিও হেফাজত নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে দাবি করে থাকে। কিন্তু ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হেফাজতে রয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহনাজ মোমেন মনে করেন, মত প্রকাশের পরিবেশ না থাকায় হেফাজতের মতো সংগঠন কখনও প্রভাব বিস্তার করতে পারছে এবং কখনও প্রভাব কমে আসছে।
"হেফাজতে ইসলাম যে ধরনের মতাদর্শ প্রচার করছে, সেগুলো খুবই সংকীর্ণ এবং আশঙ্কাজনক মতাদর্শ। এরা অন্য কোন মতকে গুরুত্ব দেয় না। যেগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে তোষণ করে এসেছে। সেটারোতো একটা মূল্য দিতে হবে," বলেন তিনি।
মেহনাজ মোমেন বলেছেন, "আমি বলতে চাচ্ছি, সরকার যখন চাইবে হেফাজতকে প্রভাব বিস্তার করতে দেবে, আবার যখন চাইবে না, তখন তার থেকে সরে আসবে। এই জিনিসটা অস্বাস্থ্যকর এবং ভীষণভাবে অসহিষ্ণুতা। রাজনৈতিক, সামাজিক সব ক্ষেত্রেই আমরা এটা দেখতে পাচ্ছি। এখানে কোন স্পেস নাই।
''মানে মানুষ যা বিশ্বাস করছে এবং রাষ্ট্রের কথার সাথে যদি একমত না হয়, সেটা প্রকাশ করার আর কোন স্পেস নাই। এটা নাই বলে দেখছি যে, কখনও কোন কোন দল সাংঘাতিক প্রভাব বিস্তার করছে। আবার কখনও তার প্রভাব কমে যাচ্ছে। এটা সুস্থ রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশ না," তিনি মনে করেন।
বিশ্লেষকদের অনেক আবার পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করছেন ভিন্নভাবে। তারা বলেছেন, এখনকার পরিস্থিতি সরকারকে সুবিধা দেবে।
তারা মনে করেন, সরকারের কঠোর অবস্থান নেয়ার সুযোগ যেমন তৈরি হয়েছে, একইসাথে সুযোগ হয়েছে হেফাজতের সাথে আবার সম্পর্ক গড়ার।
তবে দু'পক্ষই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে কিনা- সেই প্রশ্নও রয়েছে বিশ্লেষকদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, এখনকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পেছনেও তার ভাষায় দু'পক্ষের আঁতাতের বিষয় থাকতে পারে।
"হেফাজত মাওলানা শফী যখন বেঁচে ছিলেন, তখন সরকারের সঙ্গে তাদের আঁতাত আমরা দেখেছি। এবং সরকার হেফাজতকে ব্যবহার করে। হেফাজতের নিজস্ব কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রাম আছে বলে আমি মনে করি না। সরকার তাদের ব্যবহার করে তাদের যখন যে পারপাসে দরকার হয়।
"শাপলা চত্বরে (২০১৩ সালে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি) এতবড় ঘটনার পরে তাদের সঙ্গে কি মিলমিশ হয়নি?" প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। "তারা সরকারের কথায় বিভিন্ন কার্যক্রম করে। আবার যখন একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, বাইরে একটা বাজে ইমেজ হয় আমাদের জন্য, তখনই তারা সেটা ধপ করে ছেড়ে দেয়। আঁতাত না থাকলে এটা সম্ভব নয়।"
হেফাজত ইস্যুতে ১৪ দলের জোটেই অসন্তোষ
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে আওয়ামী লীগ সরকার এবং হেফাজতে ইসলাম।
তবে গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়া, পাঠ্য পুস্তকে পরিবর্তন আনা এবং সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়াসহ সরকার হেফাজতের নানা ধরনের দাবি মেনে নিয়েছে।
এমন সম্পর্কের কারণে আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটের শরীক দলগুলো এবং সমমনাদের প্রতিক্রিয়া বা ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং শরীক ওয়ার্কাস পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন বলেছেন, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় হেফাজত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমী মাদ্রাসা জননী উপাধি দিয়েছিল। সে সময় হেফাজতের বিরুদ্ধে কথা বলে তিনি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
"২০১৩ সালের পরে সরকার যখন হেফাজতের সাথে একটা সমঝোতার নীতি গ্রহণ করে, যার ভিত্তিতে সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্য সরানো হয়। সেসময় আমি মন্ত্রী ছিলাম। সেসময় আমি তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে, আমাদের যদি কারও বলতে হয়, তাহলে পদত্যাগ করে বলাই উচিত ছিল। ফলে আমাদের ১৪ দলে একটা বড় ধরনের মতপার্থক্য হয়েছিল," বলেন রাশেদ খান মেনন।
তিনি আরও বলেছেন, "এবারও এই ঘটনা যখন ঘটেছে, আমরা বলেছি, এটা রাজনীতির বাইরে কোন ঘটনা নয়। এবার আমরা একটু লাভবান হয়েছি। কারণ মিটিংয়ে আওয়ামী লীগের নেতা যারা ছিলেন তারাও আমাদের সাথে একই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।"
আওয়ামী লীগের আরেক শরিক জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার হেফাজতের সাথে সরকারের অতীত সম্পর্ককে কৌশল হিসাবে দেখেন।
তিনি বলেছেন, এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যে সহিংসতা হয়েছে, সেগুলো মোকাবেলায় সরকার এবার শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
"মাদ্রাসায় অনেক সাধারণ মানুষ আছে, তাদের একটা জায়গায় আনার কৌশল নিয়েছিল সরকার। কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়ার মধ্য দিয়ে আমরা বলতে চেয়েছি যে ধর্মকে যেন রাজনীতির মধ্যে আনা না হয়। সে কারণে সরকার তা বিবেচনা করেছে এবং কৌশলের প্রশ্নে সে জায়গাটুকুই দেখেছে," শিরীন আকতার বলেছেন। "আমি মনে করি যে এখন এগুলোকে মোকাবেলা করবার জন্য সরকার ভীষণ কঠিন অবস্থানে আছেন।"

'প্রশয়ের কারণেই আশকারা'
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার এবং আওয়ামী লীগের প্রশ্রয়ের কারণেই সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে দাবি আদায়ের একটা অবস্থান তৈরি করেছিল হেফাজত। এছাড়াও নিজেদেরকে বড় ইসলামী শক্তি হিসাবে দেখানোর চেষ্টাও তারা অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান করেছে।
এসব বক্তব্য মানতে রাজি নন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
"মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় ৫০ লক্ষ ছাত্র ছাত্রী লেখা পড়া করেন। যাদের ভবিষ্যত কর্মসংস্থানের কোন পথ ছিল না। সেখানে কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টির জন্য তাদের সনদের স্বীকৃতি দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এটাকে কোন সখ্যতা বা কোন সমঝোতা বলা যায় না। এটা (তিনি) দায়িত্ব থেকে করেছিলেন," মি: হানিফ বলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার তৎপরতাও দৃশ্যমান করা হচ্ছে।
নাশকতা বা সহিংসতার অভিযোগে মামলাগুলোতে মামুনুল হকসহ হেফাজতের অনেক নেতাকে অভিযুক্ত করে তদন্ত শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
তবে এ ধরনের সংগঠনের পক্ষে সরকারের এমন চাপ সামলানো কঠিন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
হেফাজতও সরকারের সাথে ভুল বোঝাবুঝির অবসান চাইছে বলে সংগঠনটির নেতাদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে।
সংগঠনটির নায়েবে আমীর আব্দুর রব ইউসুফী বলেছেন, তারা এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
"এটাতো শুধু হেফাজত নয়, সরকারও সংকটে পড়েছে। একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল, সেটা কেন উত্তপ্ত হলো-উভয়ের জন্যই এটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। আমরা মনে করি, যা হবার হয়ে গেছে, এখন সরকার উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতিটাকে স্বাভাবিক করতে এগিয়ে এলে সেটা সমাধান করা সম্ভব," মত দেন আব্দুর রব ইউসুফী।
হেফাজতের নেতারা বলছেন, সংকট থেকে বেরিয়ে আসার উপায় বের করতে হেফাজতের নেতৃত্ব এখন নিজেরা দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছেন।
সূত্র- বিবিসি

আরও পড়ুন