সময় বাড়িয়েও বোরো সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি

আপডেট: 02:17:26 16/09/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : ১৫ দিন সময় বাড়িয়েও মণিরামপুরে বোরোর চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গত ১৫ দিনে মাত্র ২০০ টন চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে গুদাম কর্তৃপক্ষ।
এরআগে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১১ টন ধান ও ৪৪০ টন চাল সংগ্রহ হয়েছিল। যদিও বোরো ধানের পর ইতিমধ্যে আউশের মৌসুম শেষ হয়ে শুরু হয়েছে আমনের মৌসুম।
গত বোরো মৌসুমে এই অঞ্চল থেকে চার হাজার টন ধান ও দুই হাজার ৬৮০ টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত ছিল সরকারের। সেজন্য ২৬ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চারমাস সময় নির্ধারণ করা হয়। সরকারি দামের চেয়ে ধানের বাজারদর বেশি এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় নির্ধারিত সময়ে মণিরামপুরে ধান সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় গুদাম কর্তৃপক্ষ।
মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান বলেন, ‘বোরোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মণিরামপুরে সচল ৪৪ জন মিলার চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। আমরা মিলারদের নানাভাবে চাপ দিয়েছি। তাদেরকে তিনদফা শোকজ করা হয়েছিল। দুই দিন ইউএনও-কে সাথে নিয়ে মিলারদের কাছে গিয়েছি। ইউএনও ও জেলা প্রশাসক মহোদয় মিলারদের নিয়ে মিটিং করেছেন। ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। তারপরও তারা সময়মতো চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দুই হাজার ৬৮০ টনের বিপরীতে ৬৩৫ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন আউশ ধান উঠেছে। সময় বাড়লে মিলাররা চাল দিতে পারবে বলে জানিয়েছে।’
মণিরামপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চারটা কারণে আমরা গুদামে চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছি। আম্পানের কারণে ধান পড়ে যাওয়ায় চালের গায়ে লাল দাগ পড়েছে। সেই চাল গুদামে নিচ্ছে না। আমরা চাল দিতে যেয়ে ফিরে এসেছি। করোনার কারণে শ্রমিক সংকট এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় চাল বানাতে সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় চালের দাম বেশি। আমাদের এক কেজি চাল বানাতে ৪২ টাকা খরচ পড়ে; সেখানে সরকার দিচ্ছে ৩৬ টাকা। এসব কারণে চাল দিতে পারিনি। সময় বাড়ালে আরো কিছু চাল দেওয়া সম্ভব হবে।’
মণিরামপুরে ধান চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ইউএনও সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, বোরোর চাল সংগ্রহের সময় বাড়বে কিনা বলা যাচ্ছে না। এই সংক্রান্ত এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।

আরও পড়ুন