সন্ধ্যার পর পচনশীল পণ্যের শুল্কায়ন বন্ধ

আপডেট: 04:04:43 09/09/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): রাজস্ব ফাঁকি রোধ করতে সন্ধ্যার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পচনশীল পণ্যের শুল্কায়ন বন্ধ করে দিয়েছে বেনাপোল কাস্টমস।
সন্ধ্যার পর পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে বাধ্য হয়েই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষ। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে দিনের দিন পণ্য খালাস নিতে না পারায় গরমে অধিকাংশ পণ্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর কাঁচামাল জাতীয় পণ্য ছাড়করণের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী অনিয়ম করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করে থাকে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় তিন কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। তারা প্রতিশ্রæতি রক্ষা করছে না। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে আপাতত শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
কিছুদিন আগেও বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফল জাতীয় কাঁচামাল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে এখন ভারত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের ফল ও খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পচনশীল পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। এসব আমদানি পণ্য থেকে প্রতিদিন সরকারের দুই থেকে তিন কোটি টাকা রাজস্ব আসে।
বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডের পরিদর্শক (ট্রাফিক) পলাশ জানান, বেনাপোল বন্দরে গত তিনদিনে ভারত থেকে ৪৫ ট্রাক খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পচনশীল পণ্য আমদানি হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাছ, টমেটো, কাঁচামরিচ, আঙুর, ক্যাপসিক্যামসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। কাস্টমসের বিধি নিষেধের কারণে সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ীরা অনেক পণ্য খালাস নিতে পারেননি। এ সিদ্ধান্তে রাজস্ব ফাঁকি রোধ হয়েছে বলে তার দাবি।
আমদানিকারকের একজন প্রতিনিধি রয়েল হোসেন বলেন, ভারত থেকে মূলত পচনশীল পণ্য বিকেলের দিকে আসে। আগে তারা গভীর রাত পর্যন্ত পণ্য খালাস নিতে পারতেন। তবে বর্তমানে সন্ধ্যার পর পচনশীল  কোনো কাঁচামাল খালাস নিতে পারছেন না। এতে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কাঁচামাল গরমে পচে নষ্ট হচ্ছে। সৎ ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাস্তবায়ন করতে শুল্ক কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান রয়েল।

আরও পড়ুন