সচিব নেই, দাপ্তরিক কাজও চেয়ারম্যানের কাঁধে

আপডেট: 08:19:03 23/02/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে যশোরের মণিরামপুরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউনিয়ন মশ্মিমনগর। অধিক জনবহুল হলেও এই ইউনিয়ন পরিষদে গত আড়াই বছর ধরে স্থায়ী কোনো সচিব নেই। ফলে সেবা নিতে এসে জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পরিষদের কাজকর্মে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
সচিব না থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জনসেবার পাশাপাশি পরিষদের দাপ্তরিক কাজ করেন।
শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও সরেজমিন তাকে কাঁঠালতলা বাজারে নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা গেছে।
ভোটে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সেবার কাজ সচল রাখতে চেয়ারম্যান নিজেই সচিবের কাজগুলো করেন বলে জানিয়েছেন।
সাত হাজার ৫৯২ বর্গ কিলোমিটারের মশ্মিমনগর ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৩০ হাজার ১১৫ এবং ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার। প্রতিদিনই ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ কায়েম সনদ, নাগরিকত্বের সনদপত্রসহ নানা কাজে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন স্থানীয়রা। এসব কাজের দায়িত্ব ইউপি সচিবের হওয়ায় তাকে না পেয়ে ফিরে যেতে হয় পরিষদে আসা লোকজনকে।
উপজেলার চালুয়াহাটি ইউপি সচিব বিল্লাল হোসেন সপ্তাহে সোমবার ও বুধবার দুই দিন মশ্মিমনগর ইউপিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন; যা প্রয়োজনের সামান্যই মেটাতে পারে।
ইউনিয়নের নোয়ালী গ্রামের আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘আমার ছেলের কলেজে ভর্তির জন্য জন্মসনদ লাগবে। চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, সচিব নেই। সোমবার পরিষদে যেতে হবে।’
বাড়তি দায়িত্ব পালন করা সচিব বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘বড় দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব না। মশ্মিমনগর ইউপিতে স্থায়ী সচিব একান্ত প্রয়োজন।’
চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘আড়াই বছর ধরে আমার পরিষদে স্থায়ী সচিব নেই। ফলে বিভিন্ন ফাইলপত্র তৈরি করতে দাপ্তরিক কাজগুলো আমাকেই করতে হয়। এইজন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ব্যক্তিগত অফিসে বসে ফাইলপত্রের কাজ করি। জন্মসনদসহ যে কাজে সচিবের স্বাক্ষর লাগে সেটা তার অপেক্ষায় রেখে দিই।’
‘সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে মেয়ের জন্মসনদ চাইতে আসেন মশ্মিমনগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম। সচিব না থাকায় তাকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ বিলে স্বাক্ষরের জন্যও সচিবের অপেক্ষায় থাকতে হয়। ফলে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সচিব বাদে পরিষদ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থায়ী সচিবের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ‘আড়াই বছর ধরে মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদে সচিব নেই, এমনটি আমার জানা নাই। পাশের একজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া আছে।’
বড় ইউনিয়ন, সপ্তাহে দুই দিনে একজনের দ্বারা সব কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না- এমনটি জানালে জেলা প্রশাসক বলেন, দ্রুত অন্য একজনকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন