শ্যামনগর যেন ধ্বংসস্তূপ

আপডেট: 10:18:59 11/11/2019



img
img

সামিউল মনির, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর তাণ্ডবে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপজেলাজুড়ে শত শত কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক লাখ গাছ উপড়ে পড়েছে। দেয়াল চাপা পড়ে দুইজন আহত হয়েছেন, ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে লাখো মানুষ।
প্রশাসনের উদ্যোগে বুলবুল তাণ্ডবের আগেই উপকূলবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জীবনহানির ঘটনা না ঘটেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতি দেখে মনে হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপ।
ঝড় আর বৃষ্টিতে হাজার হাজার হেক্টর চিংড়ির ঘেরসহ আমনের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। গাছ-গাছালি পড়ে এবং বিদ্যুৎ এর খুঁটি উপড়ে সমগ্র উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে যায়। সোমবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ৯৫ ভাগ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। যার ফলে গোটা উপজেলাজুড়ে এক ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
মোবাইল পরিষেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় মানুষ একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ রোববার রাত তিনটার পরপরই শ্যামনগরে আঘাত হানে। রোববার সকাল প্রায় আটটা পর্যন্ত চলে বুলবুলের তাণ্ডব। শুরুতে বৃষ্টি থাকলেও সকালের পর থেকে তীব্র দমকা বাতাসে কয়েক লাখ গাছ উপড়ে পড়ে।
ঝড় থেমে গেলে জনপদজুড়ে এক ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গাছ-গাছালি পড়ে শ্যামনগর-কালিগঞ্জ, শ্যামনগর-নুরনগর, শ্যামনগর-নওয়াবেঁকীসহ সব সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে আগের রাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বল্প ও দূরপাল্লার যাত্রী কিংবা পণ্যবাহী কোনো যানবাহন রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারেনি। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাড়ির সম্মুখভাগ থেকে উপড়েপড়া গাছ-গাছালি অপসারণের চেষ্টা শুরু করেন। এরপর শ্যামনগর-কালিগঞ্জসহ কয়েকটি সড়কে স্বল্পভাবে যোগাযোগ চালু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশালাকারের অসংখ্য গাছ ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ার পাশাপাশি বেশকিছু বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়। এর ফলে শুক্রবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত গোটা উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের তৎপরতায় সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে শুধুমাত্র শ্যামনগর উপজেলা সদরের স্বল্প জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৪-৫ দিনের আগে শ্যামনগরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।
এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রোববার ভোররাত পর্যন্ত চলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কালিঞ্চি, তারানীপুর, ঠাকুরঘেরী, ভেটখালী, কুপোট, বিড়ালাক্ষী, নৈকাটিসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। বাঁধ না ভাঙা সত্ত্বেও টানা বৃষ্টিতে উপজেলার গাবুরা, পানখালী, কদমতলা, ভুরুলিয়া, বুড়িগোয়ালিনী, পদ্মপুকুর, কৈখালী, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট বড় কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার পাশাপাশি গোলাখালী, আবাদচণ্ডিপুর, সোরাসহ অসংখ্য জায়গায় কাঁচা রাস্তা শনিবার থেকেই পানিতে তলিয়ে রয়েছে। আবার অনেক জায়গার রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের দশ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তালিকা তৈরির পর সরকারিভাবে অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন