শ্যামনগরে গ্রাম পাহারায় তরুণ-যুবারা

আপডেট: 07:55:04 07/04/2020



img
img

সামিউল মনির, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের কৌশল হিসেবে শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা, নকিপুর, কাটিবারহলসহ কয়েকটি গ্রামের প্রবেশদ্বারে পাহারা বসানো হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দাসহ বহিরাগতদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয়দের উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।
বাঁশ ও বেঞ্চ দিয়ে প্রবেশমুখ আটকে এসব গ্রামের তরুণ-যুবারা পালা করে পাহারা দিয়ে বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে জানিয়েছে। একইসঙ্গে গ্রামের বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন উদ্যোগী এসব তরুণ।
মঙ্গলবার দুপুরের পর উপজেলা সদরের বাদঘাটা, কাটিবারহল ও নকিপুর এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। দেখা যায়, গ্রামগুলোর প্রতিটি প্রবেশমুখে চার থেকে ছয় জন পর্যন্ত অবস্থান করছে। কোনো প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশকে পাহারার কাজে সহায়তা দিতে দেখা যায়।
কেউ ওই সব গ্রামে ঢুকতে চাইলে তার নাম পরিচয় জানার পর গন্তব্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে অনেকের প্রয়োজন মিটিয়ে দিচ্ছেন পাহারায় দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীরা।
নকিপুর গ্রামে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় মালামাল কেনার জন্য এক বাসিন্দা গ্রামের বাইরে যেতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের সাইকেল নিয়ে তার জরুরি মালামাল কিনে এনে দিচ্ছেন।
তরুণ-যুবাদের এমন তৎপরতাকে সমর্থন দিয়ে এসব গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার, শেফালী বেগম ও মিজানুর রহমানসহ অন্যরা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সবাই আতংকের মধ্যে রয়েছেন। গ্রামের কিছু ছেলে নিজেদের উদ্যোগে বহিরাগতসহ স্থানীয়দের অপ্রয়োজনীয় চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্রামের শত শত পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার যে চেষ্টা করছেন, তা প্রশংসনীয়।
মঙ্গলবার দুপুরের পর উপজেলার রমজাননগর ভেটাখালীসহ আরো কয়েকটি এলাকায় গ্রামের প্রবেশমুখে স্থানীয়দের উদ্যোগে পাহারা বসিয়ে সামাজিক জনসমাগমের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এবিষয়ে বাদঘাটা গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী আল ইমরান জানান, বহিরাগতসহ স্থানীয়দের অপ্রয়োজনীয় চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনসহ স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে পাহারা বসানো হয়েছে।
নকিপুর গ্রামের আব্দুল আলিম জানান, নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে অবাধে চলাচল করে স্থানীয়দের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে, সেজন্য গ্রামে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু বলেন, সরকারি ঘোষণা সত্তে¡ও অনেকে অপ্রয়োজনে যত্রতত্র চলাচল করছে। সম্প্রতি ভারত থেকে আসা কিছু অপিরিচিত মানুষ গ্রামগুলোতে আসা-যাওয়া করায় বাড়িতে সতর্কতার অংশ হিসেবে কিছু তরুণের উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। এসব গ্রামে বসবাসরকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সকলের অংশগ্রহণে বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে করোনার ঝুঁকি কম রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন