শৈলকুপার সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট: 10:58:27 15/01/2021



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে আলোচিত হয়ে উঠেছে শৈলকুপা। হত্যা-পাল্টা হত্যার ঘটনায় চরম আতঙ্ক আর উত্তেজনা বিরাজ করছে পৌরশহরজুড়ে। ফলে পৌর এলাকার সকল কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঝিনাইদহের এ পৌরসভার নির্বাচন। এ পৌরসভার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ভোটারদের মাঝে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা থাকলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শুক্রবার থেকেই পৌর এলাকায় ১৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুইজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণে দুই প্লাটুন বিজিবি, ৪০০ পুলিশ এবং ১৩৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, শৈলকুপা পৌসভার নির্বাচনের আট নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন খান বাবু নিহত হওয়ায় এ ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনের দুইদিন আগে বুধবার রাত একটার দিকে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা আগে নিহত আলমগীরের সমর্থকদের হমালায় প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনের ভাই লিয়াকত হোসেন বল্টু (৫৫) নিহত হন। এসব ঘটনার পর থেকে পৌরবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনের ছেটে ভাই আওয়ামী লীগ কর্মী বল্টু হত্যার ঘটনায় ২০ জনকে আসামি করে শৈলকুপা থানায় একটি মামলা হয়। খুনের ঘটনায় যুক্ত অভিযোগে বাপ্পি নামে একজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকেল তিনটায় ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম এখানে ইভিএম মেশিনে ভোট হচ্ছে।
শৈলকুপা নির্বাচন অফিস থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জুযেল আহমেদ জানান, নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন, কাউন্সিলর পদে ৩৬ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নয়টি ওয়ার্ডের ২৮ হাজার ৬৩২ জন ভোটার ১৫টি কেন্দ্রের ৯২টি কক্ষের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন তারা।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হাই নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী খলিলুর রহমান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) তৈয়বুর রহমান। প্রচারণার শেষ দিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী কাজী আশরাফুল আজমের নির্বাচনী অফিসে উপস্থিত জনতার কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট চান সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। এই নিয়ে নির্বাচন অফিসে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিকার দাবি করেন তারা।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র কাজী আশরাফুল আজম। আশরাফুল আজম তৃতীয় বারের মতো পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেলেন। এদিকে মাঠে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী তৈয়বুর রহমান খান। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিদ্রোহী প্রার্থী তৈয়বুর রহমানকে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিষ্কার করে দল। এছাড়া মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি প্রার্থী আবু জাফর।

আরও পড়ুন