শেকলে বাঁধা জীবনে করোনা-দুর্যোগ

আপডেট: 04:12:50 17/04/2020



img

তারেক মাহমুদ, (কালীগঞ্জ) ঝিনাইদহ : প্রতিবন্ধী ইসমাইল হোসেনকে শিকলে বেঁধে রেখে মা আফরোজা বেগম যান অন্যের বাড়িতে কাজ করতে। কাজ শেষে যে খাবার পান, তা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। এই খাবারে মা-ছেলের একবেলা পেট ভরে। বাকি দুই বেলা বাড়িতে রান্না করেন।
এভাবেই চলছিল মা-ছেলের দিনাতিপাত। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বদলে গেছে তাদের যাপিত জীবন। এখন আর মানুষের বাড়িতে কাজে যেতে পারছেন না মা আফরোজা বেগম। ফলে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। এখনো কোনো সরকারি সহযোগিতাও পাননি হতভাগা এই নারী আর তার সন্তান।
আফরোজা বেগমদের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের শ্যামকুড় গ্রামে।
কথা হয় আফরোজার সঙ্গে। জানান, তার স্বামী আবদুস সামাদ প্রায় আট মাস আগে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। দুই ছেলে আর এক মেয়ে তাদের। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বেশ আগে। বড় ছেলেও বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। আর প্রতিবন্ধী ছোট ছেলেকে নিয়ে তার অনটনের সংসার। তবে, বড় ছেলের সামান্য আয়-রোজগার দিয়ে নিজের সংসার চালিয়ে মা-ভাইকে দেখা কঠিন। জমা-জমি বলতে তেমন কিছুই নেই তাদের।
আফরোজা বলেন, শেকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে প্রতিবেশিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে ছেলে। গত ছয় বছর ধরে এভাবেই ছেলেকে আটকে রেখেছেন। ছেলেকে এভাবে রেখে কাজে যেতেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সব বদলে গেছে। এখন খাবারের কষ্টে দিন কাটছে মা-ছেলের।
শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চার নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার বিশারত আলী বলেন, ছেলেটির একটি প্রতিবন্ধী কার্ড আছে। এবার তার ওয়ার্ডে বরাদ্দ যা ছিল, তা বিতরণ করা হয়ে গেছে। আবার বরাদ্দ পাওয়ামাত্র আফরোজাকে দেওয়া হবে।
বড় ছেলে আলাদা সংসার করলেও মা-ভাইকে সামান্য সাহায্য করেন বলে জানান এই ইউপি সদস্য।

আরও পড়ুন