শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর স্কুল-কলেজ

আপডেট: 01:26:05 12/09/2021



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর): দেড় বছর বন্ধ থাকার পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলেছে মণিরামপুরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রায় পাঁচশ' শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর আবার স্কুলে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। নতুন উদ্যমে লেখাপড়া শুরু করতে চায় তারা।
সকালে স্কুলে ঢোকার আগে তাপমাত্রা মাপা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এরপর হাত ধুয়ে ও মাস্ক পরে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেছে তারা। ক্লাসে ঢোকার আগে ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছেন শিক্ষকরা।
তার আগে এক সপ্তাহ ধরে শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের চারপাশ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে জেড আকারে ক্লাসে বসানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
রোববার মণিরামপুরের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়েছে।
মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল দশটা এবং পৌনে ১১টায় শুরু হয়েছে এসএসসি ও দশম শ্রেণির পাঠদান। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রসায়ন ও হিসাববিজ্ঞান বিষয় দিয়ে শুরু হয়েছে ক্লাস। দশম শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ধর্ম বিষয় দিয়ে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রণয় বিশ্বাস বলেন, জোড় ও বেজোড় রোল ভাগ করে আলাদা ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। দশম ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুটি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস চলবে। সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একদিন করে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসের রুটিন করা হয়েছে। তাদের একদিন করে স্কুলে আসতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিউটন দাস বললো, ‘স্কুলে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলেও আমরা চাই আমাদের স্বার্থে স্কুল খোলা থাকুক।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন দাশ বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত পোশাকের জন্য কাউকে বাধ্য করছি না। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জন্য স্কুলে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
নিয়মিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করছে কি না সেই বিয়ষটি নজরে রাখছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশচন্দ্র সরকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশচন্দ্র সরকার বলেন, ‘কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস চলছে। কোথাও অনিয়ম চোখে পড়েনি।’
তিনি বলেন, হঠাৎ কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। সেজন্য সব প্রতিষ্ঠানে আইসোলেশন কক্ষ খুলতে বলা হয়েছে। দুই-একটা প্রতিষ্ঠান এখনও আইসোলেশন কক্ষ খুলতে পারেনি। তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সব প্রতিষ্ঠানকে বলা হচ্ছে। কেউ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন