শিক্ষক স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট: 09:00:44 24/01/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার: হাসপাতালে ভর্তি লতিফা পারভীন লাবনী (৩২) নামে এক বধূ তার শিক্ষক স্বামীর বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ এনেছেন।
তবে, তার স্বামী আমিনুল ইসলাম বাবু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্বভাব ভাল না। নিজের অপকর্ম ঢাকতেই এই নাটক সাজিয়েছেন তিনি।
শনিবার দিবাগত গভীর রাতে যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকার বাসায় ঘটে বলে লাবনী জানিয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম বাবু যশোর সদরের আমদাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর গ্রামের সমসের আলীর ছেলে।
যশোর শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার বাসিন্দা লাবনী বলেন, আমি বসুন্দিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। আমিনুল ইসলাম বাবুর সাথে একবছর চার মাস আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাকে নগদ টাকা ও সোনারগহনা মিলে মোট ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর মোটরসাইকেল ও ২০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। অপারগতা প্রকাশ করায় আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। আমার সাথে বিয়ের আগে তার আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল, যা আগে জানতাম না। যৌতুকের কারণে আগের সংসারও টেকেনি। বাবু বাকপটু মানুষ; বেশ রসিয়ে রসিয়ে কথা বলে। ইংরেজিতে বেশ পারদর্শী। বাকপটুতার কারণে একাধিক নারীর সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
লাবনীর অভিযোগ, সে প্রায়ই রাত করে বাসায় ফেরে। প্রতিবাদ করলেই গায়ে হাত তোলে। ঘরে টিভির সাউন্ড বাড়িয়ে দিয়ে আমাকে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। যাতে করে চিৎকারের শব্দ আশপাশের কেউ শুনতে না পায়।
তিনি বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে একটি নম্বর থেকে আমার স্বামীর নম্বরে ফোন আসে। ওইসময় তড়িঘড়ি সে বাড়ি থেকে বের হয়। রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরলে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করতে থাকে। আশপাশের লোকজন টের পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, স্ত্রী ও শাশুড়িকে এতোটাই ভালোবাসি যে নিজের প্লেটের খাবার তাদের গালে পর্যন্ত তুলে খাওয়াই। লাবনীর স্বভাব-চরিত্র ভালো না। নিজের দোষ আড়াল করতে অপবাদ দিচ্ছে।
গেল রাতে স্ত্রীর সাথে স্ত্রীর সাথে কাটাকাটির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, রাত ১২টার দিকে ঘুমিয়ে যাই। স্ত্রীর চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। আত্মহত্যার নাটক করতে শরীরে সে কীটনাশক ঢেলে দেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার আহম্মেদ তারেক শামস বলেন, শরীরে আঘাত নিয়ে লাবনী নামে এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আশংকামুক্ত।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।

আরও পড়ুন