শার্শায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্রি-৮৭ ধান চাষ

আপডেট: 09:58:33 27/09/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : শার্শা উপজেলায় আমন মৌসুমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত ঝড় ও বৃষ্টি সহনশীল ব্রি-৮৭ জাতের ধানের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। এলাকার কৃষকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে নতুন এই জাত।
উপজেলায় গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে ২৭ বিঘা জমিতে এই ধানের চাষ হয়। তবে এবার প্রায় তিন হাজার কৃষক ৮০০ হেক্টর (৭২০০ বিঘা) জমিতে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ব্রি-৮৭ জাতের ধানের চাষ করেছেন। আগামী আমন মৌসুমে এই সংখ্যা অন্তত তিনগুণ বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
নতুন এই জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে গত বছর শার্শা উপজেলার ১৫ জন কৃষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে তাদেরকে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ায় তারা লাভবান হন।
কৃষি বিভাগ বলছে, শার্শা উপজেলায় গত কয়েক বছরের ব্যবধানে স্বর্ণা, রতœা, চিকন মিনিকেট ও সুগন্ধি চিকন, ব্রি-৫০, ব্রি-বিনা ৬৩, বাংলামতি জাতের ধান চাষ বেড়েছে। তবে ব্রি-৮৭ চাষে কৃষকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, তাদের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল এই ধান চাষে ফলন পেতে সময় লাগে ১২৭ দিন। অন্য ধানে লাগে অন্তত ১৫০ দিন। বৃষ্টি ও ঝড় সহনশীল এই জাতের ধানের ফলন প্রতি একরে ১০৫ মণ।
আমলাই গ্রামের ধানচাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমন মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। ব্রি-৮৭ জাতের ধানগাছের গোড়া শক্ত হওয়ায় সাধারণ ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ হেলে পড়ে না। এতে ফলনে মার খাওয়ার কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।
শার্শার চাষি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ধানের চাহিদা, ফলন ও দাম তিনটেই একসাথে পাওয়া যায় বলে ব্রি-৮৭ জাতের ধানের চাষ করেছি। এই ধানের চাষ করলে দুই ফসলি জমিতে বছরে তিন ফসলের চাষ করা যায়। এটা আমাদের একটি বাড়তি পাওনা।’
গোগার খোরশেদ আলম বলেন, ‘গত বছর একবিঘা জমিতে ব্রি-৮৭ জাতের ধানের চাষ করেছিলাম। এবার অন্য ধান ছেড়ে পাঁচ বিঘায় এই জাতের চাষ করিছি। এটা চিকন চাল হওয়াতে বাজারে চাহিদা আছে। ভালো দামও পাওয়া যায়। বীজের জন্য অনেকে করছে। আগামী বছর অনেকে এই ধান চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।’
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতমকুমার শীল বলেন, মোটা ধান প্রতি একরে ৬৫ থেকে ৭৬ মণ ফলন হলেও স্বর্ণা, মিনিকেটসহ অন্যান্য চিকন ধানের ফলন হয় ৫৮ থেকে ৬৭ মণ। দিনের পর দিন চিকন ধান ও চালের চাহিদা বাড়ছে। ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা ঝুঁকছেন চিকন ধান চাষে। এবার ফলন বেশি হয় এমন একটি জাতের খোঁজ পাওয়ায় ব্রি-৮৭ চাষে এলাকার কৃষকের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। যেসব এলাকায় কৃষক আমন ধান কেটে একই জমিতে আগাম আলু বা শীতকালীন সবজি আবাদ করে অধিক লাভবান হতে চান, তাদের জন্য এ জাতটি বিশেষ উপযোগী।

আরও পড়ুন