শাওনে উচ্ছ্বসিত শুকুরনরা

আপডেট: 03:20:26 06/04/2020



img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : বিধবা শুকুরন নেছা (৫০) গত কয়েকদিন হলো মহাদুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন। দেশের পরিস্থিতিগত কারণে কয়েকদিন ধরে ঘরেই বন্দি থাকতে হচ্ছে তাকে। তাই আয়-রোজগার নেই। কাজে বের হতে পারছেন না। আপন বলতে কেউ নেই তার।
আগামী দিনগুলো কীভাবে পার করবেন- এ দুশ্চিন্তা যখন ঘুরপাক খাচ্ছে শুকুরনের মনে, তখনই অনেকটা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো তার ভাঙাচোরা বাড়ির আঙিনায় খাদ্যসামগ্রীর একটি প্যাকেট নিয়ে হাজির কয়েক যুবক। বাড়িতে বসে চাল, ডাল, আলু, তেলসহ নিত্য পণ্যসামগ্রী পেয়ে খুশিতে উচ্ছ্বসিত শুকুরন বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। কাজে নেচ্ছে না কেউ। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতিছি। ছেলেগুলো আমার জন্য খাবার নিয়ে আসায় আমি খুশি হোয়েছি।’
সোমবার সকালে এ খাদ্রসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় শুকুরনের বাড়ি। শুকুরন বাঘারপাড়া উপজেলার পশ্চিমা গ্রামের বাসিন্দা।
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি নারিকেলবাড়িয়ার ভ্যানচালক বুলু মিয়া,দিনমজুর শাহাবুদ্দিনও।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে প্রত্যেক নাগরিককে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। দুর্দিনে থাকা এসব খেটে-খাওয়া মানুষকে খুঁজে বের করে ও তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন বাঘারপাড়া উপজেলা ঘাতক দালার নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী রাকিব হাসান শাওন ও তার সহকর্মীরা। শুধু দিনেই নয়, রাতেও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে হতদরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি। তাদের পক্ষ থেকে তিন সহস্রাধিক ম্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাকিব হাসান শাওনের এই সামজিক কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাঘারপাড়ার বিশিষ্টজনরা।
নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদ হোসেন বলেন, ‘শাওনের এই ইতিবাচক কর্মকাণ্ড উপজেলাজুড়ে প্রশংসা পেয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে এতো সংখ্যক স্বল্প আয়ের মানুষকে সাহায্য দিতে এ উপজেলায় কেউ এগিয়ে আসেনি। তার সাহসী এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।’
এর আগে গত ৪ এপ্রিল দুপুরে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ত্রাণ তহবিলে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করে এ কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে জহুরপুর, বন্দবিলা, রায়পুর, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের হতদরিদ্র মানুষকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন শাওন ও তার অনুসারীরা। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় এ খাদ্যসামগ্রী প্রদানের বন্দবস্ত চলমান রয়েছে।
গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাকিব হাসান শাওন ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ভোটে হেরে গেলেও উপজেলাজুড়ে তার তৎপরতা রয়েছে চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে রয়েছে তার সরব উপস্থিতি।
জানতে চাইলে রাকিব হাসান শাওন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মতো চেষ্টা করছি অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে। উপজেলার প্রত্যেকটা গ্রামে এ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। কেউ না খেয়ে থাকলে তার বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে যাবে। এ ব্যাপারে আমার কর্মীবাহিনী নজর রাখবে।’
খাদ্য সহায়তার আওতা আরো বাড়ানো হবে বলে জানান এই তরুণ।

আরও পড়ুন