শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পাননি নাজিমের স্বজনরা

আপডেট: 07:28:32 11/12/2019



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : দেশ স্বাধীনের ৪৮টি বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু মহেশপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত নাজিম উদ্দীনের পরিবার আজও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পায়নি।
লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নাজিম উদ্দীন। কিন্তুপাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন নাজিম উদ্দীন। খেজুরবাগান ক্যাম্পে (বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে) নিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শহীদ নাজিম উদ্দীন মহেশপুর পৌর এলাকার ক্যাম্পপাড়ার পরেশ মন্ডলের ছেলে।
এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাজিম উদ্দীন ছিলেন মুজাহিদ বাহিনীর একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য। তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধেও অংশ নেন। ওই সময় তার ছেলে ওয়াজেদ আলীর বয়স ছিল মাত্র সাত মাস। অসুস্থ ছেলের জন্য ওষুধ কিনে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন নাজিম উদ্দীন।
এসংবাদ রাজাকাররা পেয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে জানিয়ে দেয়। পরে পাক বাহিনী শ্বশুরবাড়ি যোগীহুদা গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দীন ও তার শ্বশুর হাসমত আলীকে অস্ত্রসহ ধরে নিয়ে যায়।
মুক্তিযোদ্ধারা আরো জানান, ওই খেজুরবাগানে আরো বহু লোককে হত্যা করা হয়। সেটি এখন বধ্যভূমি।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দীন বলেন, নাজিম উদ্দীনের পরিবার এখনো শহীদ পরিবারের মর্যাদা পায়নি- এটা দুঃখজনক। যে মর্যাদাটি দেশ স্বাধীনের পরেই হওয়ার কথা ছিল।
মহেশপুর পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, নাজিম উদ্দীনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে সাত দিন খেজুরগাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নাজিম দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। অথচ তার পরিবার শহীদ পরিবারের মর্যাদা পায়নি- এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।’