লোকসানের বোঝায় নুয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া চিনিকল

আপডেট: 01:39:24 02/12/2020



img

শ্যামলী খন্দকার, কুষ্টিয়া:  গত ১৯ বছরে ৪৬১ কোটি টাকা লোকসান গুণেছে কুষ্টিয়া চিনিকল লিমিটেড। গেল মৌসুমে ৬১ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। এভাবেই নানা সংকটে বন্ধের পথে চিনিকলটি। মিলটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছে। গত সাত মাস ধরে বেতন পান না তারা। করোনার এই সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
কুষ্টিয়া শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে জগতি এলাকায় ১৯৬১ সালে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৬৫ সালে শেয় হয়। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে এটি চিনি উৎপাদন শুরু করে।  
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এটাকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। এই বৃহদায়তন ভারি শিল্প-কমপ্লেক্সটি চিনি কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও জৈব সার কারখানা এবং অফিস ও আবাসন ভাবনের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে চিনি মজুদ করে রাখার জন্য প্রতিটি ছয় হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার দুটি গুদামঘর রয়েছে। এই মিলের দৈনিক আখ মাড়াই করার ক্ষমতা এক হাজার ৫২৪ টন এবং উৎপাদনের ক্ষমতা ১৫ হাজার টন। মিলকে ঘিরে মেডিকেল সেন্টার, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, ব্যাংক ও রেলস্টেশন প্রতিষ্ঠা হয়। প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়ে বিশাল এক কর্মযজ্ঞে মুখর থাকতো মিল এলাকা। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমেও এই মিল থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লাভ হয়। ২০০১ সাল থেকে লোকসানের মুখে পড়ে মিলটি। এরপর প্রতি বছরই লোকসানের অংক বাড়তে থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে আখ বিক্রির পাওনা অর্থ পান না আখচাষিরা। কুষ্টিয়া চিনিকল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে- বিভিন্ন মাধ্যমে এমন খবর শুনে মিলগেটে ভিড় করছেন তারা। পাওনা টাকাসহ চলতি মৌসুমে জমিতে লাগানো আখ বিক্রি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় এখানকার কৃষকরা।
এদিকে, মিল বন্ধের কথা শুনে মিল চালু রাখার পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কুষ্টিয়া চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীরা।
কুষ্টিয়া সুগার মিলের জিএম (কৃষি) মুন্সী মোহাম্মদ খলিল বললেন, লোকসানের কারণে দেশের যে ছয়টি চিনিকল বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে তার মধ্যে কুষ্টিয়া চিনিকল অন্যতম। আখ চাষিদের কাছে তিন কোটি পাঁচ লাখ টাকা দেনা রয়েছে মিলের। পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২১ কোটি টাকার চিনি আর পাঁচ কোটি টাকার চিটাগুড় অবিক্রিত রয়েছে। এগুলো বিক্রি হলে কৃষকের দেনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও পুরনো এই মিলটি আধুনিকায়ন করা হলে আবারো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলেও আশাবাদী এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন