রাজস্ব ফাঁকি, বেনাপোলে তিন শুল্ক কর্মকর্তা সাসপেন্ড

আপডেট: 05:59:40 13/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : প্রায় ৩০ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকিতে সহযোগিতার মাধ্যমে আমদানি পণ্য চালান খালাস দেওয়ার অভিযোগে বেনাপোল কাস্টম হাউজের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকির সহায়তায় দুই সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) কাস্টমস কর্মকর্তা সাসপেন্ড ও লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কাস্টম কর্মকর্তারা হলেন, বেনাপোল কাস্টম হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ ও ইবনে নোমান। লাইসেন্স বাতিল হওয়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দুটি হলো বেনাপোলের ‘মদিনা এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মাহিবি এন্টারপ্রাইজ’।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ঢাকার প্রতিষ্ঠান ‘আলহামদুলিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ ভারত থেকে ৬৬৫ প্যাকেজ মোটরপার্টসসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করে (যার কাস্টমস বি/ই নম্বর-১৪৮২৭ ও তারিখ ২৭.০২.২০)। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে খবর আসে চালানে বড় ধরনের অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কৌশলে একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে পণ্য চালানটি গোপনে খালাস করে।
একপর্যায়ে অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম টের পেয়ে চালানটির চার ট্রাক পণ্য আটকের নির্দেশ দেন। কিন্তু তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিন রাজস্ব কর্মকর্তার সহযোগিতায় ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে সরকার প্রায় ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়। পরে আরো তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়ায় ওই তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন। সেই সঙ্গে রাজস্ব ফঁকির মূল হোতা বলে কথিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মদিনা এন্টারপ্রাইজ ও তার সহযোগী মাহিবি এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়।
বেনাপোল কাস্টম হাউজে রাজস্ব ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়ম বেড়ে যাওয়ায় পর তিন বছর ধরে এখান থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি হয় তিন হাজার ৩৯২ কোটি ২২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন