যে বাজারে চা বিক্রি বন্ধ

আপডেট: 09:23:49 23/03/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : 'কোনো দোকানদার চুলা জ্বালাবে না, এক কাপ চাও বানাবে না। যদি শুনি কোনো দোকানদার এক কাপ চা বানিয়েছেন, তাহলে তাকে সোজা ধরে নিয়ে যাব। এক মাসের জেল দেবো। সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও হবে।'
রোববার রাত আটটার দিকে উপজেলার টেংরামারী বাজারের চা-দোকানিদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন খেদাপাড়া ক্যাম্পের এসআই খাইরুল।
করোনা সংক্রমণরোধে মানুষকে সচেতন করতে এসে তিনি  এমনভাবে শাসিয়েছেন চা-দোকানিদের।
এসআই খাইরুলের ভয়ে সোমবার সকাল থেকে ওই বাজারের সব দোকানে চা বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দোকানিরা দোকান খুলে চুপচাপ বসে আছেন। সোমবার বিকেলে টেংরামারী বাজারে গিয়ে সব দোকানে চা বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। যদিও এসময় খোঁজ নিয়ে পাশের সোহরাব মোড়, ভাণ্ডারী মোড় এমনকি ক্যাম্পের পাশে খেদাপাড়া বাজারেও চা বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়।
টেংরামারী বাজারে চা-দোকান রয়েছে ১৫-১৬টি। চা বেচেই সংসার চলে এসব দোকানিদের।
যদিও করোনা ঠেকাতে মণিরামপুরে চা বানানো বা বিক্রি বন্ধ সম্পর্কে এখনো কোনো নির্দেশনা নেই। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জনসমাগম যাতে না হয়, সবাইকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ফলে পুলিশ কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্তে হতবাক দোকানিসহ খরিদ্দাররা।
বাজারের চা বিক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, ‘রোববার রাত আটটার দিকে খেদাপাড়া ক্যাম্পের ৫-৬ জন পুলিশ আমার দোকানের সামনে আসে। এসেই বাজারের সব দোকানদারদের একসাথে ডেকে বলেছে, কোনো দোকানদার চুলা জ্বালাবে না। এক কাপ চা বিক্রি করলে দোকানদারের এক মাসের জেল ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। সেই ভয়ে সকাল থেকে চুলা বন্ধ রেখেছি।’
চা-বিক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরাতো গরিব মানুষ। চা না বেচলে খাব কী!’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই খাইরুল অভিযোগ স্বীকার করেন। বলেন, ‘প্রথমে ওই রকম বলেছিলাম। পরে দোকানদারদের বলেছি, দোকানে লোকের ভিড় রাখা চলবে না। যারা চা পান করতে আসবে তারা পান করেই চলে যাবে।’
জানতে চাইলে করোনা রোধে উপজেলা পর্যায়ে গঠিত টিমের মেন্টর হীরককুমার সরকার বলেন, ‘চা বিক্রি বন্ধ রাখতে বলা মানেই তো লকডাউন ঘোষণা করা। মণিরামপুরে এখনো তেমন কোনো ঘোষণা আসেনি। আমরা চা দোকানে ক্যারম খেলা ও টিভি চালানো বন্ধ রাখতে বলেছি। দোকানদারদেরকে বলা হয়েছে, যেনো দোকানে ভিড় না হয়। চা পান করেই লোকজনকে চলে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন