যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি

আপডেট: 07:28:54 27/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : এশিয়ান হাইওয়ের অংশ বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে নতুন গাছ রোপণ, নির্মানাধীন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করাসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।
আজ সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের সংগঠনটির নেতারা তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা যশোর। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন জেলা যশোর। আর যশোরকে আরো সমৃদ্ধ করেছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান বেনাপোল। ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখানে এসে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরকে একটি আধুনিক বন্দরে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর দেশের সিংহভাগ শিল্প কলকারখানা ও গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির মালামাল আমদানি হয় এই বন্দর দিয়ে। সার্বিকভাবে বছরে এই বন্দর দিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার মালামাল আমদানি-রফতানি হয়। রাজস্ব আদায় হয় পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মতো। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বাণিজ্য। তাতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি ছয় লেন করা না হওয়ায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইতিমধ্যে এ বন্দরটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। চার দেশীয় ট্রানজিট করিডোর এই বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর। ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল অত্যন্ত সন্নিকটে বিধায় কম সময়ে এ বন্দর দিয়ে মালামাল আমদানি করা সম্ভব। প্রতিদিন এই পথে ৮-১০ হাজার যাত্রী ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করে থাকেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির কথা বিবেচনা করে কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা রুটে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়েছে। আন্তঃদেশীয় ঐতিহাসিক ট্রানজিট চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।
অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি বলেন, অবিলম্বে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের পাশে ২০০ বছরের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে ফেলা প্রয়োজন। এ সড়কের পাশে অধিকাংশ গাছের মেয়াদ নেই। গাছের শেকড় নষ্ট হয়ে ও ডালপালা সড়কের ওপর ঝুঁকে থাকায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন।
এ মহাসড়কটির চলমান সম্প্রসারণ কাজ সঠিক মাপ অনুযায়ী করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া বন্দরের বাইপাস সড়ক প্রশস্তকরণ, বেনাপোলে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ নুরুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিলন, কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ নাছির উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান, আলমগীর সিদ্দিকী, আব্দুল লতিফ ও সাজজদুল ইসলাম সৌরভ।
দাবি আদায় না হলে ঈদের পর আন্দালনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

আরও পড়ুন