যশোর পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান নয় পরিচিত মুখ

আপডেট: 06:57:08 22/01/2021



img
img

শহিদুল ইসলাম দইচ : আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় যশোর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নয় পরিচিত মুখ। ইতোমধ্যে তারা প্রচারণাও শুরু করেছেন। আবার অনেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
বর্তমান মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু আসন্ন নির্বাচনেও প্রার্থী হতে চান। তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী, জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর কবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আসাদুজামান মিঠু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হায়দার গনি খান পলাশ।
অপরদিকে, বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে চান সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে মুল্লুক চান।   
বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকালাদার রেন্টু সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'দল যে আশা নিয়ে আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছিল, তা আমি সফলভাবে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। গত পাঁচ বছরে যশোর পৌরসভায় অভাবনীয় উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এখনো অনেক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দলীয় নেত্রী যদি আবারো আমার হাতে নৌকা তুলে দেন, তাহলে যশোর পৌরসভাকে সারাদেশের মধ্যে মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো। সেইসাথে শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।'
সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত যশোর পৌরসভায় উন্নয়ন কাজ শুরু হয় আমি দায়িত্বে থাকাকালে। আমার শুরু করা কাজই চলমান রয়েছে। যার ক্রেডিট নিচ্ছেন বর্তমান মেয়র।'
তিনি বলেন, 'এখনো নানাভাবে অবহেলিত পৌরসভার সাধারণ মানুষ। তারা তাদের সুখ-দুঃখের কথা মেয়রকে বলার সুযোগ পান না। অথচ, তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখভাল করাই পৌরপিতার কাজ। আমি নির্বাচিত হলে জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো। একইসাথে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি যশোর পৌরসভাকে নাগরিকদের জন্য আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো।'
এদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থী মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে দলের নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দলের কাছ থেকে আমি কিছুই পাইনি। আমি মনে করি দলের হাইকমান্ড বিবেচনা করে আমার হাতে নৌকা তুলে দিলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে যশোরবাসীকে সম্পৃক্ত করতে পারবো। সেইসাথে জনমনে এ সরকারের জন্য আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হবো। এছাড়া পৌরবাসীর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করবো।'
যশোর পৌরসভার ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো নারী মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন- জেলা যুবমহিলালীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী। তিনি বলেন, 'ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের প্রথম পৌরসভা যশোর। এই পৌরসভায় কখনো কোনো নারী নেতৃত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে দলীয় প্রধান আমাকে মনোনয়ন দেবেন- এমনটা প্রত্যাশা করি। দলীয় মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে আমি যশোর পৌরসভার উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।'
জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আসাদুজামান মিঠু বলেন, 'আমি দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী। তাছাড়া, সামাজিক কাজকর্ম ও দেশের যুবসমাজকে মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ক্রীড়া ক্ষেত্রে কাজ করছি। সবকিছু বিবেচনায় রেখে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা করছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে যশোরের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।'
হুমায়ূন কবীর কবু বলেন, 'আমি রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের জন্য কাজ করি। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমি তৃপ্ত হই। আমার প্রতিষ্ঠান কুইন্স হসপিটালে অসহায় মানুষের চিকিৎসা করাতে টাকার চিন্তা করি না। সমাজের একজন ছোটখাট সেবক ও দলের পরীক্ষিত একজন কর্মী হিসাবে আমাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। অবশ্যই দলের হাইকমান্ড সবকিছু বিবেচনায় রেখে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। নৌকার মাঝি হিসেবে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যেতে চাই।'
আওয়ামী লীগনেতা হায়দার গনি খান পলাশ বলেন, 'আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও দলের পরীক্ষিত কর্মী। দল আমাকে কোনো কিছু দেয়নি। আমি আশাবাদী এবার দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।'
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে মুল্লুক চানের বক্তব্য প্রায় একই।   তারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কী নির্বাচন হবে সেটা সবার জানা। যদি নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং দল মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করতে আগ্রহী। মেয়র হিসাবে প্রথম কাজটি হবে নাগরিক সুবিধাগুলোর বাস্তবায়ন, বলছিলেন এই দুই নেতা।

আরও পড়ুন