যশোর জেনারেল হাসপাতাল প্রায় রোগীশূন্য

আপডেট: 10:42:18 25/03/2020



img
img

শহিদুল ইসলাম দইচ : করোনা রোগী সন্দেহে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ রোগীর নমুনা জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর-এ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, করোনা সংক্রমণের ভয়ে খুব জরুরি ছাড়া রোগীরা হাসপাতালমুখো হচ্ছেন না। এমনকী হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিরচেনা সেই ভীড় আর দেখা যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চাইছেন, মামুলি রোগে কেউ যেন এখানে না আসেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে আউটডোরে সাধারণ রোগীদের উপস্থিতি খুবই কমেছে।
আউটডোর, জরুরি বিভাগ, সার্জারি, মেডিসিন, অর্থোপেডিক রোগীদের ওয়ার্ডগুলো একেবারে ফাঁকা বললেই চলে। অথচ, সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে রোগী এবং তাদের স্বজনদের ভীড় লেগেই থাকতো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা দ্রুতই কমেছে। হঠাৎ মানুষ খুব সচেতন হয়ে গেছেন, অথবা মানুষের রোগ-বালাই দূর হয়ে গেছে- এমন কথা কেউ বিশ্বাস করছেন না। সাধারণের বিশ্বাস, করোনা সংক্রমণের ভয়ে মানুষ হাসপাতালমুখো না হয়ে বিকল্প পথে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন। তবে, রোগীর সংখ্যা কম হওয়াকে পজিটিভলি দেখছেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপকুমার রায়। তার ভাষ্য, এটি খারাপ কোনো লক্ষণ না। সরকার চাইছে, মানুষ ঘরের মধ্যে থাকুক। আর আমরা বলেছি, ছোটখাটো অসুখ বাড়িতে বসেই চিকিৎসা করানোর জন্যে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ আরিফ আহমেদ বলেন, ব্যাপক প্রচার প্রচারণা এবং সচেতনতার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতালের আউটডোর টিকিট কাউন্টার ইনচার্জ মফিজুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ আগেও এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাঝে ২২শ’ থেকে ২৮শ’ টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। ২৪ মার্চ টিকিট বিক্রি হয় ৬২১টি। তারমধ্যে পুরুষ ৩৪৭ মহিলা ২৬৬ জন। আর বুধবার সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয় মাত্র ৬৭টি।
হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কাউন্টারে কর্মরত ব্রাদার মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দিনে গড়ে রোগী আসতেন পাঁচ শতাধিক। আজ সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৮। আর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন মাত্র আটজন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার এম আব্দুর রশিদ বলেন, পারসোনাল প্রটেকশনের কারণে মানুষজন বাসার মধ্যেই রয়েছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন না। এজন্য হাসপাতাল, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে।
হাসপাতালের আরএমও বলেন, গত ২২ মার্চ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬শ’। তার মধ্যে ফ্লু কর্নারে ছিলেন ১১৪ জন। ২৩ মার্চ রোগীর সংখ্যা ছিল ১২শ’। ওই দিন ফ্লু কর্নারে ছিলেন ৫৮ জন। এটি সম্ভব হচ্ছে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা এবং সঠিক দিক নির্দেশনার কারণে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপকুমার রায় বলেন, ‘আমরা চাইছি সাধারণ রোগীরা টেলিচিকিৎসা গ্রহণ করুন। যে রোগীর তিনমাস পর অপারেশন করলে চলবে, তাকে অপেক্ষা করতে বলেছি। এখন প্রায়োরিটি দিচ্ছি করোনা আর ডেঙ্গু চিকিৎসায়।’

আরও পড়ুন