যশোরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি সংস্কারে সেনাবাহিনী

আপডেট: 01:16:55 24/05/2020



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে সাইক্লোন আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি সংস্কার করে দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা। শুক্রবার তারা এ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
জেলার সব উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আম্পানের তাণ্ডবে যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় গাছ উপড়ে বা ভেঙে বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিহত হয়েছেন ১২-১৩ জন। সেনাপ্রধানের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা। তারা আটটি টিমে বিভক্ত হয়ে আট উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি চিহ্নিত ও মেরামত করে দিচ্ছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আজ সকালে সেনাসদস্যদের একটি টিম সদর উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকায় কাজ করেন।
মেরামত কাজের নেতৃত্বে থাকা ক্যাপ্টেন কামরুল হাসান বলেন, সাইক্লোনে যশোর জেলায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য সেনাপ্রধানের নির্দেশে ও যশোর সেনানিবাসের জিওসি’র তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। যাদের বাড়ি মেরামত করার সামর্থ্য নেই প্রথমে তেমন ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বাড়ি পুরোপুরি মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যাদের গবাদি পশু ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে তাদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুক্রবার তারা দশটি ঘর মেরামত করেছেন এবং আজ ২০টি বাড়ি মেরামত করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নেমেছেন। এভাবে যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। 
এদিকে সেনাসদস্যদের কাছ থেকে এ মানবিক সহায়তা পেয়ে খুশি ক্ষতিগ্রস্তরা। আব্দুর রহিম নামে একজন বলেন, ‘ঝড়ে পুরো ঘরটি পড়ে যায়। সামর্থ্য ছিল না ঠিক করার। আর্মি সদস্যরা এসে ঘরটি মেরামত করে দিচ্ছে সাথে খাবারও দিয়েছে। এতে আমি খুব খুশি।’
জরিনা বেগম নামে অপর এক নারী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী একটি নাতিকে নিয়ে আমার সংসার। ঝড়ে ঘর পড়ে যাওয়ায় খুব চিন্তায় ছিলাম। আর্মি এসে ঘর ঠিক করে দিয়েছে, আবার খাবারও দিয়েছে। এতে অনেক উপকার হয়েছে; যা সারাজীবন মনে থাকবে।’
সালাম হোসেন নামে অপর একজন বলেন, ‘ঝড়ে আমার গরুর গোয়াল উড়ে যায়। চারটি গরু ও দুটি ছাগল আহত হয়েছে। গতকাল সেনাসদস্যরা আমার গোয়াল ঘরটি নির্মাণ করে দিয়েছে।’
যশোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল নেয়ামুল হাসান বলেন, ‘আমাদের যা কিছু সামর্থ্য আছে, তাই দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার চেষ্টা করছি। দুইদিনে ১৪০টি ঘর মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যাতে সকল ক্ষতিগ্রস্তকে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়।’

আরও পড়ুন