যশোরে ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা

আপডেট: 10:32:39 29/09/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিটন মিয়া মঙ্গলবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এই আদালত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন ক্ষমা করে দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করে দেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী জিএম কামরুজ্জামান ভুট্টো।  
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি রাতে যশোর রাজারহাট মোড়ের একটি পিকআপের ধাক্কায় আরেকটি পিকআপের থাকা শাহবুল মিয়া হাসপাতালে মারা যান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঢাকা মেট্রো ড-১২-১৪৩৬ পিকআপটি জব্দ করে। এঘটনায় নিহতের ছেলে শিমুল হোসেন বাদী হয়ে অপরিচিত গাড়িচালককে আসামি করে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন।
পিকআপটির মালিকানা দাবি করে জিম্মায় নেওয়ার জন্য যমুনা ব্যাংক লিমিটেড ও র্যা নকন অটোমোবাইলস লিমিটেডের রিকভারি অফিসার রমজান আলী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। এই আবেদন নামঞ্জুর হলে তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিউ আবেদন করেন। গত ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে পিকআপটি দরখাস্তকারীর জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক। ১৪ সেপ্টেম্বর জুডিসিয়াল আদালতে জিম্মানামা জমা দেওয়া হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কোতয়ালী থানাকে জব্দ করা গাড়ি আবেদনকারীর জিম্মায় দেওয়ার আদেশ হয়।
এর পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর কোতয়ালী থানায় হাজির হয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দরখাস্তকারী। তার অভিযোগ, ওই সময় থানার ওসি মনিরুজ্জামান ও মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা লিটন মিয়া তার কাছে মোটা টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গাড়ি দেয়নি থানা কর্তৃপক্ষ।
এঘটনার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা লিটন মিয়া পিকআপটি জিম্মায় না দিয়ে আদালতে একটি লিখিত অবহিতকরণ দরখাস্ত দেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার মূল আসামিকে শনাক্ত করা যায়নি। এমতাবস্তায় গাড়িটি জিম্মায় দিলে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।
২৩ সেপ্টেম্বর পিকআপের জিম্মাদার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিষয়টি অবহিত করে ফের আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে অভিমত দেওয়া হয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ অমান্য করা আদালত অবমাননার শামিল। ফলে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- সে মর্মে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।
এরপর মঙ্গলবার ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে নিশর্ত ক্ষমা চান। বিচারক ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল হলে আর ক্ষমা করা হবে না বলে সতর্ক করে তাদের ক্ষমা করে দেন।

আরও পড়ুন