মোটরসাইকেলটি গেল কোথায়

আপডেট: 10:42:04 25/11/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : মোটরসাইকেলে ফেনসিডিলসহ একজনকে আটকের পর মামলা দিয়ে থানায় চালান দিলেও মোটরসাইকেল জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে। আসামি জামিনে বাড়ি এসে মোটরসাইকেলের সন্ধান করতে এ ঘটনা জানাজানি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ফেনসিডিলসেবী ইমরান হোসেন রনিকে (২০) বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া বিজিবি চেকপোস্ট থেকে একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ও দুই বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করেন বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের কতিপয় সদস্য। এরপর ওই যুবককে ১ নভেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক মামলা দিয়ে চালান দেওয়া হয়। চালানের ১৮ দিন পর জামিন পেয়ে তার মোটরসাইকেলের ব্যাপারে যোগাযোগ করে দেখেন, সেটি থানায় জমা দেওয়া হয়নি।
বাইকটি বিজিবির কোনো এক সদস্যকে চালাতে দেখেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন রনি বলেন, ‘‘গত ৩০ অক্টোবর বেনাপোলের গাতিপাড়া থেকে আসার সময় ওই গ্রামের একটি বিজিবি পোস্টে আমাকে তল্লাশি করে দুই বোতল ফেনসিডিল পায়। আমাকে বিজিবি সদস্যরা গাতিপাড়া পোস্ট থেকে গাড়িতে করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে এবং আমার হলুদ রঙের একটি অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল ওই পোস্টে রেখে দেয়। ওই সময় বিজিবি সদস্য নায়েক বাবুল বলে, ‘তোর মোটরসাইকেলটি আমার পছন্দ। আমি খেয়ে ফেলব।’ আমি এরপর জেলখানা থেকে ১৮ দিন পর জামিন পেয়ে বাড়িতে এসে মোটরসাইকেলের সন্ধান করি এবং বিজিবি সদস্য বাবুলকে মোবাইলে ফোন করি। তখন তিনি কোনো উত্তর দেয় না। পরে ওই নাম্বার থেকে ফোন করে বলে, ‘এ বিষয় নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করিস না।’’
ঘটনার সময় উপস্থিত শিমুল নামে এক যুবক তার একটি ভিডিও সাক্ষাতে বলেছেন, ‘রনির কাছে একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ছিল। সে গাতিপাড়ায় একটি হলুদ রঙের গাড়ি এবং ফেনসিডিলসহ আটক হয়।’
এই ব্যাপার বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক মো. নাজমুল হোসেনকে তার নাম্বারে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গাড়িচালক। আমি ওই আসামিকে গাড়িতে নিয়ে আসি। মোটরসাইকেল অন্য কেউ নিয়ে এসেছে কি-না আমি জানি না। টহল কমান্ডার বলতে পারবে গাড়ির কী হয়েছে।’
ওই জায়গায় ডিউটিরত নায়েক জাহাঙ্গীরকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘যখন তাকে আটক করা হয়, সে সময় তার কাছে কোনো মোটরসাইকেল ছিল না। আমাকে এ বিষয়ে ফোন দিবেন না।’
বেনাপোল ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হারাধনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ওই সময় এখানে ছিলাম না। বিষয়টি জেনে আপনাকে পরে জানাব।’
ভুক্তভোগী রনির বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে জানিয়েছি।’
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে, কর্নেল সেলিম রেজা বলেন, ‘বিজিবি এমন ঘটনা ঘটাতে পারে না। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাব। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি।’
বেনাপোল পোর্ট থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, ওই আসামির সঙ্গে কোনো মোটরসাইকেলের মামলা হয়নি। থানায় কোনো মোটরসাইকেল জমা হয়নি।

আরও পড়ুন