মাল্টা চারায় লাখপতি চৌগাছার বারিউল

আপডেট: 02:12:10 30/08/2020



img
img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর): চৌগাছায় কৃষিতে একজন সফল উদ্যোক্তার নাম বারিউল ইসলাম (২৮)। তিনি উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমত গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রণোদনার ৫৯টি মাল্টার চারা দেওয়া হয় শিক্ষিত যুবক বারিউল ইসলামকে। মাত্র এই ৫৯টি মাল্টা চারা ব্যবহার করে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। তাকে দেখে এলাকার অনেক যুবক আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপারে উৎসাহ পাচ্ছেন।
কথা হয় বারিউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে উপজেলার কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে ৫৯টি মাল্টা চারা পান। চারাগুলো নিজের দশ কাটা জমিতে রোপণ করেন। এলাকায় মাল্টার চারার চাহিদার কথা চিন্তা করে তিনি নিজ বাগানের মাল্টা গাছ থেকে কলমের মাধ্যমে নার্সারি তৈরি করেন। একই সঙ্গে তার নার্সারিতে মাল্টা ও কমলাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলদ বৃক্ষের চারা তৈরি করেন। তার বাগানে মাল্টা ধরা শুরু করলে এলাকায় মাল্টা চারার ব্যাপক চাহিদা হয়।
তিনি জানান, প্রথম বছর মাল্টা বিক্রি করে তেমন একটা অর্থ উপার্জন না হলেও মাল্টার চারা বিক্রি  করে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেন। চলতি মৌসুমে তিনি আরো তিন-চার লাখ টাকার চারা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বারিউল বলেন, 'আমার সব সফলতা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে। কারণ তারা যদি চারাগুলো আমাকে না দিত তাহলে হয়ত আমি মাল্টা চাষই করতাম না।'
তার কাছ থেকে মাল্টা ও কমলার চারা কিনে এলাকার শিক্ষিত যুবক রবিউল ইসলাম, আনিছুর রহমান, বাবলুর রহমান, মেহেদী হাসান, আবু সাঈদসহ অনেকেই মাল্টাবাগান করেছেন। বারিউল নিজে আরো এক বিঘা জমিতে নতুন বাগান করেছেন। তার বাগানে প্রচুর মাল্টা ধরেছে। চলতি মৌসুমে ফল বিক্রি করে তিনি ৬০-৭০ হাজার টাকা পাবেন। খবর পেয়ে অনেকে দূর থেকে বাগান দেখতে আসছেন। বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই তার কাছ থেকে চারা কিনছেন।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইস উদ্দীন বলেন, এখানকার মাটি, আবহাওয়া আর পরিবেশ অনুকূলে থাকায় সরকারি সহযোগিতায় কৃষকরা চাষাবাদে যেমন এনেছেন বৈচিত্র্য, তেমনি এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন কৃষিপ্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান উদ্ভাবনে। উপজেলায় এখন প্রায় দশ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে। আর এই মাল্টা চাষের বিপ্লবকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছেন তরুণরা।