মামুন আজাদের তিনটি কবিতা

আপডেট: 10:49:22 26/05/2020



img

বনবিবির পালা
(উৎসর্গ : আনু মুহাম্মদ)
 
দাদাবাবুদের বাজার অর্থনীতির চুক্তিতে
বিক্রি হয় টন টন কয়লা।
বিদ্যুৎ হবে, আলো জ্বলবে, হরিণ বাঘ মামারা
উন্নয়নের মহাসড়কে পদ্মাসেতু পার হয়ে
ভর্তি হবেন ইউনিভার্সিটিতে
তারপর ব্রেনড্রেনে চলে যাবেন দূরদেশে।

অতঃপর
বনবিবির মাথার ঘোমটা খসে যাবে-
রামপালের কালো ধোঁয়ায়।
হাজার ভোল্টের আলোয়
কৃষ্ণ মুচকি মুচকি হাসবেন
আর দ্রৌপদীরা বস্ত্র খুলবে ধীরে ধীরে!
উপরে ইন্দ্রদেব, নিচে দুর্যোধনেরা
চোখে মুখে চেটে খাবে একে একে সব।
অবনত মস্তকে ধর্ষিতা বনবিবি
চলে যাবে দূর থেকে দূরে
যেদিকে সূর্য অস্ত যায়।

এবং এরপর।
একদিন টুরিস্ট ভিসা হলে
জব চার্নকের কলকাতা ঘুরে
দেখতে যাবো
ওদের সুন্দরবন


তোদের কোন ইতিহাস নেই

সেদিন ছিল শুক্রবার, জুমার ওয়াক্ত
চোখের সামনে উড়ে গেল নমরুদের মূর্তি।
পবিত্র কালামে লেখা
পবিত্র আয়াতে লেখা
জালিমের ধূলিসাৎ দেখে
'ওহাবি'দের উল্লাস ধ্বনি
প্রতিধ্বনি হয়ে কানে ঢুকলো সিসার মতো
কেঁপে উঠলো সিনা!
'স্যাম চাচা' মুচকি হাসলেন।

তারপর যতোবার ধ্বংস হলো
মেসোপটেমীয়ার জাদুঘর
ততোবারই আনন্দধ্বনি করলেন 'উনারা'

পরের বছর আশুরার মাসে
পশ্চিম থেকে উড়ে এলো আগুনে চিল
গুঁড়ো হলো তার বাবার কবর ।
'নারায় তাকবীর' বলে তেড়ে এলো সে
ক্রুর হাসি হেসে 'লালমুখো'
কানে কানে মন্ত্র ফুঁকলেন !
এখানে তোর বাবার কবর ছিল না
এখানে কোন কবরই ছিল না
তোর কোন বাবাই ছিল না কোনকালে



দেয়াল ও পিঠের গল্প

আমাদের পিঠ আর কবে দেয়ালে ঠেকবে
'ওরা' আমাদের টাকাগুলো বানালো সাদা কাগজ
আমাদের মাথার উপর ছাদে দিল
বাঁশের কঞ্চি
আমাদের ভাইদের হত্যা করলো
বাবার টুপি ছুড়ে, দাড়ি ধরে টানলো খোলা বাজারে
আমাদের রাস্তা ওদের চল্লিশ টনি ট্রাকের দখলে
নৌপথ, বন্দর গেছে আগেই, ট্রেন গেল!
এখন যাচ্ছে খাবার পানি, চুলোর আগুন
তবে কি আমরা রোজা রাখবো সারা বছর
বন্ধুর সেবার সওয়াবে
জান্নাতে খাবো আঙুর আর হুরেদের
রসালো চুমু
আমাদের ঘুম কি কুম্ভকর্ণের চেয়ে গাঢ়!
আমরা কি জাগবো না
আমরা কি দেখবো না
কীভাবে আমাদের সোনামণিদের ভবিষ্যৎ
দাঁড়াচ্ছে 'গান্ধী'র হরিজনের কাতারে
আমরা কি আবার হাঁটবো নগ্ন পায়ে
ওদের বাড়ির আঙিনায়?

আমাদের পিঠ আর কবে দেয়ালে ঠেকবে
দেয়াল কি আদৌ ঠেকে পিঠে?